কাজী তৌকির থেকে আরিজিৎ: সময় যেভাবে বদলে দিয়েছে ভাগ্য

‘হার কে জিতনে ওয়ালে কো বাজিগর ক্যাহতে হ্যায়’—বলিউডের জনপ্রিয় এই সংলাপ যেন নতুন অর্থ খুঁজে পায় ভারতের রিয়েলিটি শোগুলোর ইতিহাসে। কারণ এসব প্রতিযোগিতার মঞ্চে অনেকেই বিজয়ীর ট্রফি হাতে তুললেও পরবর্তীতে হারিয়ে যান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে। আবার কেউ কেউ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থেকেও পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও প্রতিভার জোরে হয়ে ওঠেন প্রকৃত তারকা।
২০০৫ সালে সনি টিভির জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এ যৌথভাবে বিজয়ী হয়েছিলেন কাজী তৌকির ও রুপরেখা ব্যানার্জি। সে সময় বিপুল ভোট পেয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন কাজী। তার গায়কির পাশাপাশি স্টেজ পারফরম্যান্স ও ব্যক্তিত্ব দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
তবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর সেই জনপ্রিয়তাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। সংগীতজগতে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় অভিনয়ের দিকেও মনোযোগ দেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত অবস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হন। ২০১৫ সালে ‘ফ্যান্টম’ সিনেমার ‘আফগান জালেবি’ গানে উপস্থিতি নজর কাড়লেও এরপর ধীরে ধীরে বলিউডের আলো থেকে দূরে সরে যান।
অন্যদিকে, একই প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানও অর্জন করতে পারেননি এক তরুণ প্রতিযোগী। বিচারক ও দর্শকদের বড় অংশের নজর এড়িয়ে যাওয়া সেই তরুণের নাম ছিল আরিজিৎ সিং।
সময়ই বদলে দেয় সব হিসাব। কয়েক বছর পর ‘আশিকি টু’ সিনেমার ‘তুম হি হো’ গান দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান তিনি। এরপর একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে ভারতের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন আরিজিৎ।
বর্তমানে বলিউডের প্রায় প্রতিটি বড় বাজেটের সিনেমা, কনসার্ট ও মিউজিক প্ল্যাটফর্মে তার উপস্থিতি নিয়মিত। সংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি এখন এক আস্থার নাম।
শুধু ‘ফেম গুরুকুল’ নয়, ভারতের বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর ইতিহাসে এমন উদাহরণ আরও রয়েছে। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম আসরের বিজয়ী অভিজিৎ সাওয়ান্তও একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি। অ্যালবাম ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও ধীরে ধীরে তিনি মূলধারার আলোচনার বাইরে চলে যান।
অন্যদিকে একই প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করতে না পারলেও রাহুল বৈদ্য নিজের সংগীতজীবনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ধারাবাহিকভাবে। নিয়মিত গান, মঞ্চ পরিবেশনা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এখনও দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ।
বিশ্লেষকদের মতে, রিয়েলিটি শোর ট্রফি সাময়িক স্বীকৃতি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন নিরলস পরিশ্রম, আত্মনিবেদন এবং ধারাবাহিকতা। আরিজিৎ সিংয়ের ক্যারিয়ার সেই বাস্তবতারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
রিয়েলিটি শোর ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেয়—প্রতিযোগিতার ফলাফলই শেষ কথা নয়। কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে বড় জয় আসে পরাজয়ের পরই। আর সে কারণেই আজ আরিজিৎ সিংয়ের গল্প অনেক তরুণ শিল্পীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভোরের আকাশ/জেআ