মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মমতাশঙ্কর

রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকে ব্রিগেডে ভিড় জমিয়েছেন আমজনতা।
ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে উপস্থিত হয়েছিলেন টলিপাড়ার ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দার অনেক শিল্পীই। হাসিমুখে সাদা পাঞ্জাবিতে সেজে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিনেতা জিৎ।
শনিবার (৯ মে) অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, মমতাশঙ্কর, অজয় চক্রবর্তী, তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদার-সহ অনেকে।
এ ছাড়াও দেখা গিয়েছে অঞ্জনা বসু, ত্রমিলা ভট্টাচার্য, ঋষি কৌশিক, কৌশিক রায়, সঙ্ঘমিত্রা ভট্টাচার্যদের। ব্রিগেডের জনস্রোতের মধ্যে এক অন্য ধরনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সে অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিয়েছেন মমতাশঙ্কর, ঋষি, ত্রমিলারা।
অভিনেত্রী অঞ্জনা অনেক দিন আগেই শনিবারের জন্য শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন। ঘুরতে যাবেন বলে। কিন্তু শপথ গ্রহনের দিন ঘোষণার পরে বাতিল করেন সেই পরিকল্পনা। বিশেষ দিনের স্বাক্ষী হতে চেয়েছিলেন অঞ্জনা।
তাই ধুম জ্বর নিয়েও ব্রিগেডে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই দিন ধারাবাহিকের শুটিং থেকে ছুটি নিয়েছিলেন অভিনেত্রী ত্রমিলাও।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে মমতাশঙ্কর বললেন, সবাইকে দেখে মনে হল খুব খুশি। মনে হচ্ছে আমরা আবার স্বাধীনতা পেলাম। শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতবর্ষের ভাল হোক। আমাদের সৎ হতে হবে।
আমাদের নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। না হলে কেউ এসে কিছু করতে পারবেন না। অন্যায় দেখলে শাস্তি দিতে হবে। মানুষের ভিড় দেখে সবাই অভিভূত।
তিনি যোগ করেন, আজ আমাদের মন খুশি। একই ভাবে খুশির স্বর ঋষি, ত্রমিলার কণ্ঠেও। ঋষি বললেন, সক্রিয় ভাবে রাজনীতি না করলেও বরাবরই বিজেপি দলের মতে সমর্থন রয়েছে আমার। আগে কখনও রাজনৈতিক মঞ্চে যাইনি। কোনও অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হইনি। কিন্তু আমন্ত্রণ এসেছিল। এই প্রথম রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলাম।
একেবারে অন্য ধরনের অনুভূতি। কত কত মানুষ এসেছেন। ভাল লাগল। সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য এই দিন অনেক সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন শিল্পীরা। অভিনেত্রী ত্রমিলা জানালেন, প্রাতরাশ না করেই বেরিয়েছিলেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য। বললেন, “উপস্থিত হয়ে মন ভরে গেল। সবাই মার্জিত, শিক্ষিত মানুষ। ভিড় হয়েছে। কিন্তু এক শান্তির অনুভূতি।
তিনিও নিয়মিত ধারাবাহিকে অভিনয় করেন। বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ছুটি নিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বলছে রাজ্যের ২০৭টি আসন বিজেপি জিতে নিয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা।
ভোরের আকাশ /এস কে