প্রতারণার অভিযোগে সালমান খান ও বোনকে আদালতের নোটিশ

৩ কোটি রুপির প্রতারণা মামলায় আইনি চাপে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান ও তার বোন আলভিরা খান অগ্নিহোত্রি। ২০২১ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় চণ্ডীগড়ের একটি জেলা আদালত তাদেরসহ ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জমা দিতে হবে অভিযুক্তদের।
মামলার সূত্রপাত চণ্ডীগড়ের মণিমাজরা এলাকার ব্যবসায়ী অরুণ গুপ্তের অভিযোগ থেকে। তার দাবি, তিনি সালমান খানের সংস্থাসংশ্লিষ্ট ‘বিইং হিউম্যান জুয়েলারি’র একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়েছিলেন। শোরুম চালুর সময় সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
অরুণ গুপ্তের অভিযোগ, তাকে বলা হয়েছিল সালমান খান নিজে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এ শোরুমটির প্রচার করবেন এবং চণ্ডীগড়ে এসে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ ও ব্যবসা পরিচালনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।
এসব প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে প্রায় ৩ কোটি রুপি বিনিয়োগ করে শোরুম চালু করেন অরুণ গুপ্ত। তবে তার অভিযোগ, ব্যবসা শুরুর পর থেকেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
২০১৮ সালের নভেম্বরে শোরুম উদ্বোধনের সময় সালমান খানের পরিবর্তে তার শ্যালক আয়ুশ শর্মাকে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ২০২০ সালে কোম্পানি হঠাৎ করে পণ্য সরবরাহের মূল গুদাম বন্ধ করে দেয়। এতে শোরুমে নতুন পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্যবসা বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রতারণার অভিযোগে ২০২১ সালে চণ্ডীগড় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন অরুণ গুপ্ত। সে সময় সালমান খান, আলভিরা খানসহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো সমাধান বা ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলার প্রাথমিক শুনানিতে আদালত জানায়, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। এ কারণেই বিচারক সালমান খান, আলভিরা খান এবং ‘বিইং হিউম্যান’-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/সু.পা