ব্যাংক ম্যানেজারের কক্ষে বসেই বিকাশ প্রতারকের হাতে ব্যবসায়ীর সাড়ে ৪ লাখ টাকা

নীলফামারীতে ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে বসেই এক ব্যবসায়ীর সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে এক প্রতারক। নিজেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার পরিচয় দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে কৌশলে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে প্রতারক।
গত রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নীলফামারী জেলা শহরের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জান্নাত হোসেন ওই রাতেই নীলফামারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের বাটার মোড় এলাকায় ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবসা করেন জান্নাত হোসেন। রবিবার দুপুরে এক ব্যক্তি নিজেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংক নীলফামারী শাখার সেকেন্ড অফিসার পরিচয় দিয়ে তার দোকানে যান। একপর্যায়ে সুকৌশলে ওই ব্যবসায়ীকে ব্যাংক শাখায় নিয়ে যান তিনি।
ব্যাংকে গিয়ে ওই ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে নিয়ে বসান। সেখানে তার ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট দেখিয়ে ভালো লেনদেন রয়েছে বলে জানান এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলেন। প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে ব্যবসায়ী তার দেওয়া আটটি মোবাইল নম্বরে পর্যায়ক্রমে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা পাঠান।
টাকা পাঠানোর পর ওই ব্যক্তি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে আসার কথা বলে ব্যবস্থাপকের কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময়েও তিনি ফিরে না আসায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে ওই ব্যক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তাকে চেনেন না বলে জানান।
ভুক্তভোগী জান্নাত হোসেন বলেন, “ওই ব্যক্তি নিজেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার পরিচয় দিয়েছিলেন। ব্যাংকে আমার হিসাবের স্টেটমেন্ট নিয়ে তিনি ভালো লেনদেনের কথা বলায় তার ওপর আমার বিশ্বাস তৈরি হয়। পরে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কক্ষে বসেই তার দেওয়া নম্বরগুলোতে টাকা পাঠাই। টাকা নেওয়ার পর তিনি কৌশলে সেখান থেকে চলে যান।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় রবিবার রাতে নীলফামারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
মার্কেন্টাইল ব্যাংক নীলফামারী শাখার ব্যবস্থাপক রাশেদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি আমাদের জন্য বিব্রতকর। ওই ব্যক্তি ঘটনার আগে এফডিআর খোলার কথা বলে ব্যাংকে এসেছিলেন। এর আগে তাকে দেখেছি বলে আমার মনে পড়ে না। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে বলা হয়েছিল। পরে দুপুরের লাঞ্চের সময় তিনি বলেন, তার একজন অতিথি আসছেন এবং আমার কক্ষে বসতে চান। এরপর তারা দুজন সেখানে বসেন।”
তিনি বলেন, “পরে জানতে পারি, ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। আমাদের ব্যাংকে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।”
নীলফামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
ভোরের আকাশ/ এনউব