অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হয়রানি
হাফ প্যান্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার কর্মসূচি

মেট্রোরেলে হাফ প্যান্ট পরে চলাচলের পথে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে হয়রানির প্রতিবাদে হাফ প্যান্ট ও টি-শার্ট পরে মেট্রোরেলে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ শিরোনামে ফেসবুকে এ কর্মসূচির ইভেন্ট খুলেছেন Shawn Ahmed (শাওন আহমেদ) নামে এক ব্যবহারকারী। কর্মসূচির স্থান হিসেবে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ইভেন্টটিতে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ সাড়া দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ ফেসবুক ব্যবহারকারী ইভেন্টে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ইভেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রানিং কোচ সাজ্জাদ হোসেন তার ট্রেনিং শেষ করে স্বাভাবিক রানিং পোশাক-টি-শার্ট ও শর্টস পরে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে যান।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার পোশাককে ‘অশালীন’ বিবেচনা করে তাকে পুলিশ থামায়, জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষায় রাখে। অথচ মেট্রোরেলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ড্রেস কোড নেই।
এর প্রতিবাদেই রানার, অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট, জিমগোয়ারসহ সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইভেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ—স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে, এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে।’
বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো পোশাক নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। কর্মসূচির আয়োজকদের মতে, ‘স্পোর্টসওয়্যার স্বাভাবিক, দৌড়ানো স্বাভাবিক, শর্টসও স্বাভাবিক।’ এ কর্মসূচির স্লোগান হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’
উল্লেখ্য, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে সাজ্জাদ হোসেনকে স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। তার পোশাককে ‘অশালীন’ বলে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
সাজ্জাদ হোসেন প্রায় ১০ বছর ধরে ম্যারাথন ও আল্ট্রাম্যারাথনের প্রশিক্ষণ করান। পাশাপাশি তিনি নিজেও নিয়মিত দৌড়ান এবং ঢাকার বিভিন্ন পার্কে ভোরবেলা দৌড়ের প্রশিক্ষণ দেন।
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৫৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সাজ্জাদ। ভিডিওর শুরুতে জাকির নামের নেমপ্লেটধারী এক পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘দাঁড়ান একটু চুলটা ঠিক করি।’
পরে সাজ্জাদ হোসেন হাফপ্যান্ট পরে স্টেশনে ঢুকতে না পারার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আপনাকে বলা হয়েছে আপনি একটু শালীনতার সঙ্গে যান। এইটা একেবারে পুরোপুরি শালীনতার মধ্যে পড়ে না।’
এরপর সাজ্জাদ হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘কোনটা শালীনতা, কোনটা শালীনতা না, সেটি আপনার নিয়মে লেখা আছে?’ জবাবে জাকির নামে ওই পুলিশ সদস্য বলেন, ‘এটা দেখা আমার দায়িত্ব।’
ভোরের আকাশ/এনএস