ধানমন্ডি ৩২-এ ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের সামনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের বুলডোজার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে দুটি বুলডোজার ধানমণ্ডি-৩২-এ প্রবেশের চেষ্টা করলে রুখে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ১২টার দিকে ট্রাকে করে বুলডোজার দুটি নেওয়া হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে। এ সময় বুলডোজারের ওপর কিছু তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা নিজেদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি করেন। সেখানে বুলডোজার নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

বিক্ষোভকারীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এক্সকাভেটর ঢোকানোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশের এক সদস্যের মাথায় আঘাত লাগতে দেখা যায়।

পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড মেরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে। একাধিক সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শতাধিক সেনাসদস্য আসেন। ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও আসেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৩২ নম্বরের বাড়িটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হতে যাচ্ছে আজ।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় হওয়ার কথা রয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ভোরের আকাশ/এসএইচ