ভোরের আকাশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:০৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ট্রাভেল এজেন্সি খাতের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ (খসড়া) এর কতিপয় ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) এর সাধারণ সদস্যরা। এ সময় উদ্বেগ প্রকাশ করে আটাব সদস্যরা বলেন, আটাব কমিটি বাতিল করে সংগঠনকে দুর্বল করার নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এটি পুরো ট্রাভেল শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতি এবং লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন সদস্যরা।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর হোটেল ভিক্টরির সামনে আটাবের সাধারণ সদস্যদের আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত সদস্যরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন—“যে আইন জীবিকা কেড়ে নেয়, তা জনগণের জন্য নয়”, “বিটুবি বন্ধ নয়, সমাধান চাই”, “আমরা ভ্যাট দেই, ট্যাকস দেই, তবু কেন আমাদের ব্যবসা বন্ধের আইন?”, “অবৈধ আইন নয়, ট্রাভেল এজেন্সি বাঁচার আইন চাই”, এবং “সকল ট্রাভেল এজেন্সীর জন্য এয়ার টিকিট উম্মুক্ত কর”।

আটাব সাধারণ সদস্যরা বলেন, খসড়া আইনে কিছু ধারা রয়েছে যা দেশের ট্রাভেল ট্রেডের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লক্ষ টাকা জামানত বাধ্যতামূলক করা, এক এজেন্সির সঙ্গে অন্য এজেন্সির ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা এবং জেল-জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক এবং ব্যবসা-বান্ধব নয়। বাংলাদেশের ট্রাভেল ও ট্যুরিজম খাত ইতিমধ্যেই কঠিন সময় অতিক্রম করছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ধারা প্রণয়ন করলে লাখো মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
সদস্যদের দাবি-
১. ১০ লক্ষ টাকা জামানত বাধ্যতামূলক বাতিল করতে হবে—ছোট ও মাঝারি এজেন্সি এ অর্থ রাখতে পারবে না, যা ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করবে।
২. এক এজেন্সির সঙ্গে অন্য এজেন্সির টিকেট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ধারা বাতিল করতে হবে—শিল্পের কার্যক্রম সীমিত হবে, যাত্রী সেবার মান খারাপ হবে, ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।
৩. জেল-জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে—অপ্রয়োজনে হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ বাড়বে না, নিরপরাধ কেউ শাস্তি ভোগ করবে না।

সাধারণ সদস্যরা আরও বলেন, অতীতে ট্রাভেল ট্রেডের উপর আরোপিত যে কোনো নেতিবাচক বিষয় আটাব প্রতিহত করেছে। বর্তমানে ট্রেডের সংকটময় অবস্থায় সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করার শক্তিশালী আটাব কমিটি অনুপস্থিত। তারা অভিযোগ করেন, আটাব কমিটি বাতিল করে সংগঠনকে দুর্বল করার সিন্ডিকেট-চালিত নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

এ সময় বক্তারা জানান, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টদের অনিয়ম ও অপরাধে শাস্তি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা যায়, কিন্তু নিরাপরাধ কেউ যেন বিপদে না পড়ে তা সরকারের দায়িত্ব। সাধারণ সদস্যরা সরকারের প্রতি আহবান জানান দেশের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে ব্যবসাবান্ধব ও ন্যায্য আইন প্রণয়ন করা হোক।
মানববন্ধনে আটাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থবিরোধী আইনের ধারা সংশোধন করতে হবে এবং ব্যবসায়ীদের বাধা দূর করতে হবে। তিনি অধ্যাদেশ-২৫-এর কয়েকটি ধারা বাতিলেরও দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, দেশের বিমান পরিবহণ ও ভ্রমণ খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ