চকবাজারের ইফতারি
ঐতিহ্যের স্বাদ নিতে উপচে পড়া ভিড়

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতারি বাজার জমে উঠেছে। এখানকার বিভিন্ন পদের খাবারের চিরচেনা জৌলুস আর সরিষার তেলের পক্ব রান্নার ঘ্রাণ ভোজনরসিকদের টেনে আনে দূর-দূরান্ত থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বর্তমানে শুধু চকবাজার নয়, বাংলাবাজার, সদরঘাট, নবাবপুর, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, গুলিস্তান, ওয়ারী, লক্ষ্মীবাজার, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, আরমানিটোলা, সুরিটোলা, কাপ্তানবাজার, চানখাঁর পুল, আজিমপুর, টিপু সুলতান রোড, ধোলাইখালসহ পুরান ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইফতারির জমজমাট বাজার বসে। তবে ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে চকবাজারই কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজানের দিন দুপুর গড়াতেই চকবাজারের শাহী মসজিদের প্রধান সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

এদিকে চকবাজারের অন্যতম আকর্ষণ বড় বাপের পোলায় খায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। সামনে গেলেই শোনা যায় সে মজার ছন্দের ডাক, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’, ‘ধনী-গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়’। বড় বাপের পোলায় খায় মূলত মাংস, কাবাব, ডিম, ঘি, বুটের ডাল, মাংসের কিমা ও নানা ধরনের মসল্লা দিয়ে তৈরি করা হয়। বৈচিত্র্যময় স্বাদের জন্য রোজাদারদের আগ্রহের লিস্টে থাকে এ খাবারটি।
কথা হয় বিক্রেতা মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বড় বাপের পোলায় খায় চকবাজারের জনপ্রিয় ইফতারি আইটেম। ঢাকার নানান জায়গা থেকে মানুষ এই খাবার কিনতে চকবাজারে আসেন। ১২ রকমের আইটেম ও মসল্লাসহ এইটা তৈরি করা হয়। গতবছরের মতো এবারেও প্রতি কেজি ৮০০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে।

চকবাজারের বেশিরভাগ ইফতার বিক্রেতারা বংশ পরম্পরায় এখানে ব্যবসা করছেন। তবে তাদের পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীও রয়েছেন ,যারা শুধু রমজান মাসেই এখানে ইফতারি বিক্রি করেন। তবে এখানকার ক্রেতারা শুধুমাত্র পুরান ঢাকার নয়, বরং ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনও ইফতারির স্বাদ নিতে এখানে আসেন।

খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা তাহেরুল বলেন, চকবাজারের মূলত আসা হয় বিভিন্ন রকম মুখরোচক ইফতারি আইটেমের জন্য, যা হয়তো সচরাচর অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যায় না। তব বেশিরভাগ ইফতার খোলা রেখে বিক্রি করা হয়, এ বিষয়ে বিক্রেতাদের সচেতন হওয়া উচিত।

মিষ্টান্নেও কমতি নেই। দই-চিড়া প্রতি বাটি ১০০ টাকা, ফালুদা ছোট বাটি ১২০ টাকা এবং বড় বাটি ৫০০ টাকা। রেশমি জিলাপি ৫০০ টাকা কেজি এবং সাধারণ জিলাপি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পানীয়ের মধ্যে বোরহানি প্রতি লিটার ২০০ টাকা, হাফ লিটার ১০০ টাকা এবং ঐতিহ্যবাহী লাবাং প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ছোলাবুট প্রতি কেজি ২৪০ টাকা।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্যের স্বাদ আর আধুনিকতার মিশেলে চকবাজারের ইফতার বাজার আবারও প্রমাণ করেছে, কেন এটি ঢাকাইয়া সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ভোরের আকাশ/এসএইচ