শেওড়াপাড়ায় ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
গত ৯ জুন রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা দিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। এসময় ওত পেতে থাকা অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে সে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর হামলাকারীদের একজন চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, রাফির ওপর ওপর থেকে ইট পড়ে আঘাত লেগেছে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে একটি অটোরিকশায় করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে সোরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তে পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাফির মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মূল অভিযুক্ত মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।”
মৃত রাফির চাচা নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন তাকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভোরের আকাশ/সু.পা