বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ঢাকা

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া ও দীর্ঘদিন বৃষ্টির অনুপস্থিতিতে রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা IQAir–এর সর্বশেষ তথ্যে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচক ২৫৮ থেকে ২৮১-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। এতে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে।
এই মাত্রার বায়ুকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় সুস্থ মানুষেরও শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও গলা খুসখুসে ভাব দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক।
আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র ক্ষতিকর কণা পিএম–২.৫–এর পরিমাণ ২৪৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটারের বেশি। অথচ World Health Organization নির্ধারিত নিরাপদ সীমা মাত্র ৫ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ নিরাপদ মানের তুলনায় বহু গুণ বেশি দূষণ এখন রাজধানীর বাতাসে ভাসছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, পিএম–২.৫ কণা এতটাই সূক্ষ্ম যে এটি সহজেই ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ এবং ফুসফুসের জটিলতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
২৩ ফেব্রুয়ারি সকালের তালিকায় ঢাকার পর রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (সূচক প্রায় ২৬৭), ভারতের দিল্লি (প্রায় ২২৪) এবং কলকাতা (প্রায় ১৯৮)। এছাড়া ইয়াঙ্গুন ও কাঠমান্ডু-তেও উচ্চমাত্রার দূষণ লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীতকালে বাতাসের গতি কমে গেলে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে দূষিত কণা আটকে থাকে। ফলে দূষণের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পরিবেশবিদদের মতে, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ঢাকার বায়ুদূষণ সাময়িক সমস্যা নয়, বরং স্থায়ী জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে।
ভোরের আকাশ/আ.র