যাত্রাবাড়ীতে জুলাই শহীদ পরিবারের গণশুনানি, দ্রুতই তদন্তের আশ্বাস: চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের বক্তব্য, অভিযোগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরার লক্ষ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট ২০২৬) যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটর (অ্যাটর্নি জেনারেল) মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের পরিবারের বক্তব্য শুনলে প্রত্যেকের হৃদয় ভরাক্রান্ত হয়ে যায়।জুলাই এক বিপ্লবের নাম।নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে যত দ্রুত সম্ভব সঠিক তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এই বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম বাবু, ডেপুটি অ্যাটোরিক জেনারেল আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ রাজু।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা, ক্ষয়ক্ষতি, বিচার প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।গণশুনানিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা দ্রুত বিচার, দোষীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কানিজ ফাতেমা (শহীদ পারভেজের মা):
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "৫ আগস্ট আমার ছেলে পারভেজ শহীদ হয়। সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি শুধু চাই, আমার ছেলের হত্যার বিচার যেন হয়।"
মো. বাসির আলম (শহীদ শাহাদাত হোসেন শাওনের বাবা):তিনি বলেন, "বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে আর কিছু নেই। আমরা এই শোক নিয়ে বেঁচে আছি। যারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
রাশেদা বেগম (শহীদ সোহেল রানার মা):
তিনি বলেন, "আমার বুক খালি হয়ে গেছে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। আর কোনো মাকে যেন এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।
মো. মনির হোসেন (শহীদ জনির বাবা):
তিনি জানান, ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে তার ছেলে জনি নিহত হন। ছয় বোনের পর জনিই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাকে হারিয়ে পুরো পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "আমার ছেলের রক্তের বিচার চাই।"
হেলেনা (শহীদ মো. শাকিবের মা):
বরিশালের বাসিন্দা হলেও দোলাইপাড়ে বসবাসকারী হেলেনা বলেন, ১৮ জুলাই তার ছেলে শাকিব গুলিতে নিহত হয়। তিনি বলেন, "আমার সন্তানের মতো সব শহীদের হত্যার বিচার চাই।"
মো. বাবুল সরকার (শহীদ আব্দুর রহমান জিসানের বাবা): আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার ছেলে আব্দুর রহমান জিসান ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। গোলাগুলি থেমেছে মনে করে সে উঁকি দিলে একটি গুলি তার শরীর ভেদ করে চলে যায়। আমি চাই, আমার সন্তানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত প্রায় ১,৪০০ শহীদ ও ৩০ হাজার আহতের ঘটনায় পূর্ণ বিচার হোক।"
এ গণশুনানিতে উপস্থিত অতিথিরা তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানটি চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ভুক্তভোগী পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
গণশুনানির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বক্তব্য সরাসরি শোনা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
ভোরের আকাশ/এনএস