‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’: পুরস্কৃত ১৫ শিশু, সম্মাননা পেলেন ৪২ শিল্পী

‘উৎসবে গর্বে দায়িত্বে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ের ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীদের সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও প্রথিতযশা শিল্পীদের ক্যানভাসে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয় করে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ অতীতকে ভিত্তি করেই আধুনিক সমাজ সমৃদ্ধ হয়।
তিনি ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা’ কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন নগরবাসীর মধ্যে নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ব্রিটিশ আমলে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পীরা একত্রিত হয়ে ঢাকার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছিলেন। প্রায় এক শতাব্দী পর ডিএসসিসি আবারও প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে ঢাকাকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনন্য উপহার হয়ে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান বলেন, চিত্রশিল্প সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। ভাষার প্রচলন ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আগে থেকেই মানুষ চিত্রশিল্পের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করে আসছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে চিত্রশিল্পীদের অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি জয়নুল আবেদিন, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, দেবদাস চক্রবর্তী, স্বপন চৌধুরী ও নুরুন্নবী খানের মতো শিল্পীদের ভূমিকা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হীনম্মন্যতা দূর করে তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাঁচটি বিভাগে মোট ১৫ জন বিজয়ীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া ঢাকাকে নিয়ে আঁকা ৪২টি চিত্রকর্মের জন্য ৪২ জন প্রথিতযশা চিত্রশিল্পীকে সম্মাননা ও সনদ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালার ৪ নম্বর গ্যালারিতে ৪২টি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনী শেষে চিত্রকর্মগুলো নগর ভবনে অবস্থিত ‘নগর জাদুঘরে’ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ