শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস

‘দেশে প্রতিটি পরিবারে বছরে ৮২ কেজি খাবার অপচয় হয়’

ভোরের আকাশ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

দেশে যখন লাখো মানুষ একবেলাও পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না তখন প্রতিটি পরিবার বছরে গড়ে ৮২ কেজি খাদ্য অপচয় করে। 

ইউএনইপি’র ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ ও ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ (২০২৫) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ খাদ্য অপচয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার শীর্ষ ৫ দেশের একটি। এছাড়াও বাংলাদেশের উৎপাদিত খাদ্যের আনুমানিক ৩৪ শতাংশ নষ্ট হয়। ফসল কাটার পর ৮-১৫ শতাংশ ধান নষ্ট হয় এবং ২০-৪০ শতাংশ ফল ও সবজি নষ্ট হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীতে আয়োজিত সামাবেশে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ উদ্বেগজনক তথ্য।

উন্নয়ন সংস্থা ‘কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর’-কাপ’র আয়োজনে শাহবাগ জাদুঘরের সামনে ‘আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস’ পালন উপলক্ষ্যে এ সমাবেশে ‘খাদ্য অপচয় রোধ করি, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা করি’ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিবিও নেত্রী জাকিয়া সুলনতা। 

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সান ইয়াত, টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুর রসুল, বিওএসসি সভাপতি হোসনে আরা বেগম, সাংবাদিক আবু জাফর সাইফুদ্দিন প্রমুখ। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।  

আলোচনা থেকে আরও জানা যায়, জাতিসংঘের ‘খাবার অপচয় সূচক প্রতিবেদন ২০২৪’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে- বিশ্বে ২০২২ সালে মোট অপচয় হওয়া খাবারের পরিমাণ ১০০ কোটি টনের বেশি, যা বিশ্ববাজারে আসা মোট খাবারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। বিশ্বে খাদ্যের উৎপাদন আজ এত বেশি যে বৈশ্বিক জনসংখ্যার দেড় গুণ মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব।  

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ খাদ্য অপচয়ের ক্ষেত্রে এশিয়ার শীর্ষ ৫ দেশের একটি। খাদ্য নষ্ট হয়ে থাকে উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে। সে হিসেবে বছরে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশই নষ্ট হয়। ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য নষ্টের তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ ৫ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। খাদ্য নষ্টের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটি বছরে পরিবারপ্রতি ২০৭ কেজি খাদ্য নষ্ট করে। পাকিস্তানে হয় ১৩০, আফগানিস্থানে ১২৭, নেপালে ৯৩, বাংলাদেশ ৮২, শ্রীলংঙ্কা ও চীনে ৭৬, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩ ও ভারতে ৫৫ কেজি।

অপচয়ের উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মূলত তিনটি স্তরে খাদ্য নষ্ট হয়- উৎপাদন ও ফসল কাটার সময়, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময়, এবং শেষপর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে। প্রথম স্তরে, কৃষকরা ফসল কাটার পর ধান বা গম যথাযথভাবে শুকাতে না পারায় আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে পচন ঘটে, সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা আধুনিক গুদাম না থাকায় ফল-সবজি দ্রুত নষ্ট হয়, দ্বিতীয় স্তরে, পরিবহন ব্যবস্থা দুর্বল, সড়কে যানজট ও খোলা ট্রাকে পণ্য বহনের ফলে ফসলের মান নষ্ট হয়, শেষস্তরে, শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে রেস্টুরেন্ট, হোটেল, বিয়ে অনুষ্ঠান বা পারিবারিক আয়োজনে যে পরিমাণ খাবার ফেলে দেওয়া হয়, তা এক একটি জেলার দরিদ্র মানুষের কয়েক দিনের আহারের সমান।

‘অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে খাদ্য অপচয় হলো নীরব ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- বাংলাদেশের কৃষক তার শ্রমের সঠিক মূল্য পায় না, কারণ ফসলের একটি অংশ বাজারে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। আর সরকারকে আবার আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করতে হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অপচয় কমাতে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো যতটা জরুরি, সচেতনতা তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, শহুরে জীবনে খাবার ফেলে দেওয়া এখন যেন একধরণের সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রেস্টুরেন্টে কেউ পেট ভরে খায় না, বিয়েবাড়িতে সিংহভাগ মানুষই প্লেটের অর্ধেক খাবার নষ্ট করে, এই প্রবণতা শুধু অর্থনীতির ক্ষতি নয়, একধরনের নৈতিক অবক্ষয়ও বটে। সমাবেশে বক্তারা খাদ্য অপচয় রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

আন্তর্জাতিক বর্জ্যমুক্ত দিবস

শেয়ার করুন: