বিজয় দিবসে তরুণদের নিয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ফুটন্ত প্রতিভা তরুণ সংঘের আয়োজনে ৩২তম মিনি ম্যারাথন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাণবন্ত এ আয়োজনে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব ও ঢাকা-৪ আসনের নেতা আলহাজ্ব তানভীর আহমেদ রবিনের। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমরান আহমেদ রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মো. মোক্তার হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ কাউসার আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইমরান আহমেদ রাসেল বলেন, তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে শুধু একটি বা দুটি এলাকায় নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা প্রয়োজন। তরুণরা মাঠে থাকলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দও তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি এলাকার মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়, এটি তরুণদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। মাঠ ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ সচল থাকলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্যতম সদস্য ও সাবেক শ্রমিক নেতা জাফর আহমেদ, বিএনপি নেতা মিরাজুল ইসলাম বাবুল, হাজী জামান আহমেদ পিন্টু, মোজাম্মেল কমিশনার, বাদল মেম্বারসহ শ্যামপুর ও কদমতলী থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া শ্যামপুর ও কদমতলী থানার আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
মিনি ম্যারাথন ও ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
আয়োজকরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা হলে তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে, সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে ও মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি হবে।
তারা বলেন, তরুণদের হাতে মাদক নয়, খেলাধুলার সামগ্রী তুলে দিতে হবে। অপরাধের পথ নয়, তাদের সামনে খুলে দিতে হবে সম্ভাবনার পথ। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ভোরের আকাশ/জেআ