রাজধানীর কাজলা হাটে ভিড়, আকর্ষণে ‘শরীয়তপুরের কিং’; ভোগান্তি বাড়াচ্ছে বৃষ্টি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা পশুর হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরু দিয়ে হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর। তবে টানা বৃষ্টির কারণে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে ভোগান্তির চিত্র। কাদাপানির মধ্যে পশু দেখছেন ক্রেতারা, আর বিক্রেতারাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘শরীয়তপুরের কিং’ নামের বিশাল আকৃতির একটি কালো গরু। হাটের এক নম্বর কাউন্টারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গরুটিকে ঘিরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাম জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
গরুটির ব্যাপারী স্বপন মাদবর জানান, শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে আনা প্রায় ২০ মণ ওজনের গরুটি তিন বছর ধরে লালন-পালন করা হয়েছে। ‘শরীয়তপুরের কিং’-এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। তবে ১২ লাখ টাকা পেলে বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে এক ক্রেতা গরুটির দাম বলেছেন ৮ লাখ টাকা।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতা এখনো হাটে আসছেন না। ফলে বেচাকেনায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, প্রত্যাশিত দাম মিলছে না।
পটুয়াখালী থেকে আসা বিক্রেতা কবির জানান, তিনি ৪০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতা সাইফুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, “এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। তবে এবার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে হাটের পরিস্থিতিও খুব খারাপ।”
কাজলা পশুর হাটের ইজারাদার শামীম খান জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য হাটে সিসি ক্যামেরা, জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানেরও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ঈদের আগের দিনগুলোতে হাটে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে এবং বেচাকেনাও জমে উঠবে।
ভোরের আকাশ/এম