শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

খাঁটি স্বাদেই ৪৩ বছর ধরে মতিঝিলের ফুটপাতে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি

পুলক রাজ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল। চারপাশে উঁচু উঁচু অফিসপাড়া, ছুটন্ত মানুষ, গাড়ির হর্ন আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি। এই ব্যস্ততার মাঝেই ফুটপাতের এক কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট্ট একটি দোকান। এই দোকানটির নির্দিষ্ট কোনো নাম নেই, নেই আধুনিকতার ছোঁয়া। নেই কোনো চকচকে সাইনবোর্ড, নেই নিয়ন আলোর ঝলকানি। তবুও সেখানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।

মতিঝিলের মেট্রোরেল শেষ স্টেশন ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ঠিক পাশেই এই মিষ্টির দোকানের অবস্থান। দোকানটির রয়েছে ৪৩ বছরের এক গৌরবময় ইতিহাস। ১৯৮৩ সালের দিকে তারা মিয়ার হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। বর্তমানে সেই মিষ্টির ব্যবসার হাল ধরেছেন পরিবারের সদস্যরা। এখন সেখানে মিষ্টি বিক্রির দায়িত্বে আছেন শান্তি রঞ্জন ঘোষ।

ব্যবসার মূল মন্ত্র নিয়ে শান্তি রঞ্জন ঘোষ বলেন, আমরা সবসময় সততার সঙ্গে ব্যবসা করে এসেছি। তাই মানুষ আমাদের বিশ্বাস করে, ভালোবাসে। এই দোকানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উপাদানের সততা। প্রতিদিন সরাসরি শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় আনা হয় মিষ্টির খাঁটি উপকরণ। ফলে প্রতিটি টুকরো মিষ্টিতেই পাওয়া যায় নির্মল ও আসল স্বাদ। এখানে পাওয়া যায় রসমালাই, মালাই চপ, ছানার জিলাপি এবং দই। আর এসবের শুরুর মূল্য মাত্র ৩০ টাকা! স্বাদের মান যেকোনো নামী-দামী ব্র্যান্ডকেও হার মানায়।

প্রতিদিন অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে একঝাঁক মানুষ ক্লান্তি ভুলে থেমে যান এই দোকানের সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছেন, কেউ বা পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য। রুহুল কবির নামে একজন নিয়মিত ক্রেতা হেসে বলেন, ৫ টাকা দিয়ে এই দোকানে মিষ্টি খাওয়া শুরু করেছিলাম, এখন ৩০ টাকা দিই। দাম বাড়লেও স্বাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আরও পড়ুন

অন্যের হক আদায়ে কেন এত গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম?

ফারিন নামে আরেকজন নতুন ক্রেতা জানান, প্রায়ই যাওয়ার পথে দেখি এখানে মানুষের ভিড় লেগে থাকে। আজ কৌতুহল সামলাতে না পেরে নিজেই স্বাদ নিতে চলে এলাম।
আজকের দিনে যেখানে খাবারের দোকান মানেই জাঁকজমক আর কৃত্রিম বিলাসিতা, সেখানে এই ফুটপাতের দোকানটি যেন এক সাদামাটা, অকৃত্রিম প্রেমের প্রতীক। কোনো চটকদার বিজ্ঞাপন বা প্রচার নেই, তবুও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের শত শত উপস্থিতিই এর বড় প্রমাণ।

অনেকের জন্য এটি কেবল একটি মিষ্টির দোকান নয়, বরং কর্মব্যস্ত দিনের শেষে একটু পুরোনো দিনের অভ্যাস, খানিকটা স্মৃতি আর এক চিলতে প্রশান্তি। শহরের এই তীব্র কোলাহলে নিঃশব্দে চলতে থাকা দোকানটি প্রমাণ করে। মন ছুঁয়ে যাওয়া খাবারের জন্য দামী পরিবেশের প্রয়োজন হয় না, শুধু প্রয়োজন সততা, নিষ্ঠা আর ভালোবাসার স্পর্শ।

ভোরের আকাশ/সু.পা

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি

শেয়ার করুন: