জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায্য সংগ্রাম: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে সকল মজলুমের ন্যায্য সংগ্রাম। এ আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল ন্যায়বিচার, গণমানুষের অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই চেতনাকে ধারণ করে বিভেদ ও সংঘাত পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন এমপি।
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই: জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা মুসা আল হাফিজ। স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
এছাড়া বক্তব্য দেন দলের সহ-সভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, সহকারী মহাসচিব মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা ফেরদাউর রহমান, মাওলানা নুর মোহাম্মদ কাসেমী, মুফতি মাহবুবুল আলম, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা ইসহাক কামাল ও রিদওয়ান মাযহারীসহ অন্য নেতারা।
সভায় বক্তারা বলেন, পারস্পরিক বিরোধ, প্রতিহিংসা ও বিভক্তির রাজনীতি অব্যাহত থাকলে দেশে আবারও স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় শক্তিগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান না। তিনি বলেন, “আমরা যেমন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী, তেমনি মার্কিন আধিপত্যবাদেরও বিরোধী। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে আমরা বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই, প্রভু হিসেবে নয়।”
ভোরের আকাশ/এনএ