জার্মান শেয়ার্ডের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত শিশুসহ ২ জন

বাড়িওয়ালার জার্মান শেয়ার্ডের কুকুর কামড়ে গুরুতর ক্ষতবিক্ষত করেছে কাঠাল বাগান এলাকায় এক শিশু ও এক তরুণীকে। গতকাল সোমবার (০১ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটার দিনে এই ঘটনা ঘটে। ওই তরুনীর নাম আফসানা মিমি (২৩) এবং শিশুটির নাম আরিফা (৪)। তরুণীর গলা থেকে শুরু করে হাতের কনুই পর্যন্ত বিভিন্ন অংশের মাংশ কামড়ে ছিড়ে ফেলেছে। আর শিশুটির মাথার তালু থেকে কামড়ে চামড়া কামড়ে তুলে ফেলেছে।
ঘটনার পর দুই জনকেই রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে। দুই জনের অবস্থা গুরুত্র বলে জানিয়েছেন সংক্রামক হাসপাতালের কর্তব্যরতরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের একজন জানান, তারা রেবিসের ভ্যাকসিনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে কলেজে হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন। তিনি বলেছেন, মাথার যত কাছে জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুর কামড় দিবে ততবেশি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি থাকবে। যেহেতু শিশুটির মাথায় ৫০ শতাংশই ক্ষত বিক্ষত করেছে, সেহেতু তার জলাতঙ্কে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেশি, যদি কুকুরটি আক্রান্ত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে গাইবান্ধায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আহত আফসানা মিমির মা আসমা জানান, তারা কাঠাল বাগান বাজার গলিতে থাকেন। বাড়ি নং ২৪/বি। প্রয়োজনে তার মেয়ে নিচে নামছিলো। নেমেই কুকুরের আক্রমনের শিকার হয়। তিনি বলেন, আমার মেয়ের গলা থেকে শুরু করে হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশের কামড়ে মাংস নিয়ে গেছে। আমি বাসায় ছিলাম না। অফিসে ছিলাম। খবর পেয়ে বাসায় এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে মহাখালী নিয়ে আসি। সেখানে যে ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার, তা তারা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করেছে। তারপর আমার ঢাকা মেডিকেলে কলেজের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা জরুরী বিভাগে পর্যাবেক্ষণে ছিলো।
আসমা বলেন, কুকুরটি ছাড়া ছিলো। আমার মেয়েকে কামড়াতে কামড়াকে রাস্তায় ফেলে দেয়। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করে কুকুরটির কাছ থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে। এসময় কুকুরটি আরেকটি শিশুকেও আক্রমণ করে। তার মাথার তালু থেকে চামড়া ছিলে নিয়েছে। বাচ্চাটির অবস্থা খুবই গুরুতর বলে জানা যায়।
একটি সূত্র জানিয়েছে, বাড়ির মালিকের নাম জলিল। তার চারটি কুকুর আছে। কুকুরের আক্রমণে দুই জন আক্রান্ত হওয়ার পরও জলিলরা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। বরং তারা হুমকি ধামকি দিয়েছে। তবে সন্ধ্যার পরে তারা ঢাকা মেডিকেক কলেজ হাসপাতালে যায় এবং চিকিৎসার সব খরচ বহনের আশ্বাস দেয়। তবে এই বিষয়ে ওই কুকুরের মালিকের তাৎক্ষনিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোরের আকাশ/সু.পা