জাতীয় সংসদ নির্বাচন
মনোনয়ন দ্বন্দ্ব কিভাবে সামাল দেবে বিএনপি, জামায়াতেও বিভক্তি

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিতে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ দল সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলে প্রতি আসনের বিপরীতে একাধীক যোগ্য নেতা রয়েছে সংসদীয় আসনে এমপি প্রার্থী হওয়ার, কিন্তু প্রার্থী মনোনীত করতে হবে একজনকে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে দলগুলো নিজ নিজ দলের জন্য যাচাই-বাছাই করে আসন প্রতি একজনকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। দলগুলোর ঘোষিত প্রার্থীর নিজ নিজ আসনে ভোটের মাঠে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে। তবে দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণার পরপরই মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মনোনয়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। গত কয়েকদিনের ভোটের মাঠের চিত্র পর্যাবেক্ষণে-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বিশিষ্টজনদের পর্যাবেক্ষণে উঠে এসেছে, সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ভেতরে-ভেতরে ক্ষোভ-দুঃখে ফুঁসছেন। তবে মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারী নেতাকর্মী ক্ষোভের বশীভূত হয়ে মনোনয়ন পূনঃবিবেচনার জন্য বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এমনকি অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনী মাঠের বাস্তবচিত্র অবলোকনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু আসনের প্রার্থিতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। মাঠের পরিলক্ষিত চিত্র মতে, বিএনপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। কোথাও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, কোথাও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তালিকা নাম না দেখে ওইদিন রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ এবং আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন দলটি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকরা। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবারও অন্তত ৮ জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি নেতাদের কর্মী-সমর্থকরা।
বিএনপির বিশ্বস্ত সূত্র মতে, এবার প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থার জনমত জরিপ এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্যতা ও বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগ আসনের প্রার্থী ঠিক করার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির খুব বেশি ভূমিকা ছিল না।
দলটির সূত্র বলছে, কিছুটা আগেভাগে মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে; যাতে মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ তফসিল ঘোষণার আগে প্রশমিত হয়ে যায় এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর এ নিয়ে যাতে আর কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকে। তবে প্রার্থী তালিকায় এমন কিছু নামও এসেছে, যাদের নিয়ে আগে থেকে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে মনোনয়ন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলে মান-অভিমান এবং অসন্তোষ থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ মনোনয়ন চাওয়া সকল নেতাই যোগ্য কিন্তু সবাইকে মনোনীত করা যাবে না। তবে মাঠের এই প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিএনপির এক রাজনৈতিক নেতা মনে করছেন, বিএনপির জন্মের পর থেকে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগবিরোধী মঞ্চের যে সুবিধা পেয়ে আসছে, আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির যে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব এবং তাদের যে তৎপরতা, এখন থেকে সেটারও মোকাবিলা করতে হবে বিএনপিকে। সে রকম একটা জায়গা থেকে এবারের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে গুমের শিকার পরিবারের সদস্য আছেন, ছাত্রদল-যুবদলের নেতারাও মনোনয়ন পেয়েছেন। অর্থাৎ নবীন-প্রবীণের সমন্বয় হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, একটি ভালো মনোনয়ন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন-নবী খান সোহেল, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন মনোনয়ন পাননি।
আবদুস সালাম ঢাকার মোহাম্মদপুর, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বরিশাল, রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী, হাবীব উন-নবী খান ঢাকায়, আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রামে ও কামরুজ্জামান রতন মুন্সিগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। তাদের প্রার্থী না করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে সাংগঠনিক শাস্তির ভয়ে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে কঠোর কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ক্ষোভ বিরাজ করছে-যা দলটির একাধীক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
বিক্ষোভের মুখে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করেছে বিএনপি। কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণার পর সোমবার রাতেই এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর অনুসারীরা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তার অনুসারীরাও সোমবার রাতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ কারণে স্থানীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে দলটি।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে রেলপথ আটকে বিক্ষোভ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকরা। নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ করেন মনোনয়ন না পাওয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থকরা। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ঘোষিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের অনুসারীরা। সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিক্ষোভ করেন তার অনুসারীরা। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে শ্রীনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিএনপি নেতাকর্মীদের একাংশ। মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আহমেদ তৈবুর রহমান হিরনের সমর্থকরা নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্যামগঞ্জ বাজারে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বেবী নাজনীন মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে: নীলফামারী-১৫ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা সমর্থকরা।
মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভ রিটা রহমানের: রংপুর-৩ (সদর-মহানগর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিটা রহমান। তার বক্তব্য, তার থেকে যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি তার পক্ষে কাজ করতেন। কিন্তু যাকে শহরের লোকেরা ‘চাঁদাবাজ ও দখলদার’ বলেন, তার পক্ষে কাজ করবেন কীভাবে।
জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে জানা যায়, প্রার্থী মনোনয়নে জামায়াতে ইসলামীতে অতীতে কখনোই অসন্তোষ, কোন্দল দেখা না গেলেও এবারের নির্বাচনে ক্যাডারভিত্তিক এ দলে তা দেখা গেছে। বেশকিছু আসনে বিরোধ হয়েছে প্রকাশ্যে। আরও কিছু আসনে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, অতীতে জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে সংঘর্ষ, বিরোধ দেখা যায়নি। রুকন (সদস্য), কর্মী, সহযোগী সদস্য-এই তিন স্তর আছে জামায়াতে। সংসদ নির্বাচনে দলটিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের ভোটে প্রার্থী বাছাই করা হয়। এটি অনুমোদন করে কেন্দ্র। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও জামায়াত দলীয়ভাবে যে প্রার্থীকে সমর্থন করেছে, নেতাকর্মীরা তাকেই মেনে নেন। এবারই ব্যতিক্রম দেখা গেছে।
দলটির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রকাশ্য বিরোধ, প্রার্থীকে লাঞ্ছনা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং বিক্ষোভ দেখা গেছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে তৃণমূলের আপত্তিতে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫, গাজীপুর-৬ আসন নিয়ে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। কুমিল্লার দুটি আসনেও অসন্তোষের গুঞ্জন রয়েছে।
নিজেদের সুশৃঙ্খল দাবি করা জামায়াতে কেন বিরোধ দেখা যাচ্ছে-এ প্রশ্নে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, সমর্থক পর্যায়ের কিছু লোক অনাকাঙ্খিত কাজ করেছে। তারা দলীয় শৃঙ্খলা সম্পর্কে ততটা ভালো জানেন না। তবে জামায়াত এগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রুকন পর্যায়ের কোনো জনশক্তি এসব তৎপরতায় জড়িত নয়।
দলটির সূত্র মতে, ময়মনসিংহ-৬ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। রুকনিয়াতও স্থগিত করা হয়েছে। ২০০১ সালে এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। এবারের নির্বাচনেও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
এ আসনে আগামী নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন। তাঁর নাম ঘোষণার পর জসিম উদ্দিনের সমর্থক ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে কামরুল হাসান মিলনকে ফুলবাড়ীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা বললেও সাংগঠনিক পদ স্থগিত হওয়ার পর জসিম উদ্দিন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে কামরুল হাসান মিলন বলেন, নেতাকর্মী সবাই ভোটের প্রচারে ঐক্যবদ্ধ। যে দুই-একজন এখনও সক্রিয় নন, তারাও নির্বাচনের সময় দলের পাশে থাকবেন।গত ২৭ অক্টোবর কুমিল্লার চান্দিনায় উত্তর জেলা জামায়াতের গণমিছিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমনটি অতীতে কখনও দেখা যায়নি। একটি পক্ষের ভাষ্য, জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের দোসর। সেদিন বক্তব্য করার সময় মাইক কেড়ে নিয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ ‘দল বিক্রি চলবে না, আওয়ামী দোসর প্রার্থী মানি না’ স্লোগান দেয়।
স্থানীয় জামায়াত সূত্র জানায়, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা শাকের উল্লাহ তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু জেলার নেতারা তা বদলে ফেলেছেন বলে তাদের অভিযোগ। ২৭ অক্টোবর বিক্ষোভের সময় জেলা আমির ও সেক্রেটারির বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
চান্দিনা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাজিদ আল-আমিন বলেন, জেলা আমির ও সেক্রেটারি অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে মোশাররফ হোসেনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, চান্দিনার ঘটনাটি উদ্বেগের। দলের ৮৪ বছরের ইতিহাসে এমন বিশৃঙ্খলা হয়নি। এ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শাকেরকে তরুণদের একটি অংশ প্রার্থী হিসেবে চাইছে। কিন্তু প্রার্থী বদল করা হবে না। এতে খারাপ বার্তা যাবে।
এর আগে পাবনা-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মাওলানা ইকবাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ করে স্থানীয় জামায়াতের একাংশ। তারা জামায়াতের তিনবারের এমপি আবদুস সোবহানের ঘনিষ্ঠ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুর রহিমকে প্রার্থী করার দাবি জানান।স্থানীয় নেতাদের একাংশের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর নানা অপকর্মে জড়িয়েছেন ইকবাল হোসেন। তিনি জামায়াতের প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ