মহানায়কের প্রত্যাবর্তন আজ

দেশখ্যাত মহানায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আজ বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাস ১৫ দিন নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে আজ দুপুর ১২টায় প্রিয় জন্মভূমিতে পা রাখছেন বিএনপির এই প্রধান কান্ডারী। দেশপ্রেমিক এই নেতার সঙ্গে আসছেন তার সহধর্মিনী ডা: জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এছাড়া মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা। তাকে বহনকারী ‘বাংলাদেশ বিমান’র নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকায় হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামবেন।
এয়ারপোর্ট থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চে উঠবেন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক তারেক রহমান। সেখানে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। সমাবেশস্থল থেকে সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। সেখানে মায়ের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটিয়ে গুলশানের মায়ের বাসায় ফিরবেন।
এই মহানায়কের প্রত্যাবর্তন দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে বর্ণাঢ্য আযোজনে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনায় প্রস্তত ঢাকা। একইসঙ্গে সংবর্ধনাস্থলে ঐতিহাসিক গণজমায়েতের পরিকল্পনা বিএনপির। রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে নির্মিত হয়েছে বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। সংবর্ধনা স্থলসহ গোটা রাজধানী যেন মানুষের মহামিলন ও মহামেলায় পরিণত হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে-এমনটাই আশাবাদ দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভীর।
বাংলাদেশের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু, জনগণের আস্থার প্রতীক এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার লড়াইয়ের এক আপসহীন নেতা তারেক রহমান। তারই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের সর্বস্তরে আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা ফিরে পেয়েছে। বিএনপির প্রধান কাণ্ডারিকে একনজর দেখাতে এখন অধীর আগ্রহ নিয়ে রাজধানী ঢাকা আসছে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ।
সড়ক, রেল ও নৌপথে রয়েছে ঢাকামুখী জনস্রোত। সড়ক, রেল ও নৌপথ-সব দিকেই ঢাকামুখী মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সড়কপথে ঢাকামুখী বাসের ছাদে চড়েও ঢাকায় আসছেন অনেকে। আবার অনেকে বাস না পেয়ে বিকল্প বাহনে চেপে ঢাকায় আসছেন। লঞ্চঘাটে চিত্রে পরিলক্ষিত হয়, ঢাকামুখী উপচেপড়া ভিড় শুধুমাত্র হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সেই কাঙ্খিত মানুষটিকে এক মুহূর্ত দেখার জন্য। প্রথম দেখা অনুভূতি কখনোই শুধু একটা সাধারণ মুহূর্ত নয়, বরং সেটা একটা নতুন গল্পের সূচনা। হয়তো একদিন সেটাই হবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিএনপি তথা দেশপ্রেমী মানুষের জন্য শুভ মুহূর্ত আজ।
দলের একাধীক নেতারা জানিয়েছেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ইতিহাসের স্মরণীয় করতেই দেশব্যাপী তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণ হয়েছে। জেলা, উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজেরাই ভাড়া করছেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস। গতকাল বুধবার হতেই রাজধানীর চতুরপাশ থেকে আসা জনতার ঢলে জনসমূদ্রে পরিনত হয়েছে। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাবেন। এ জন্য বিদেশে থাকেন এমন অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বিভিন্ন রুটে ১০টি ট্রেন
বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের জন্য ১০টি রুটেস্পেশাল (বিশেষ) ট্রেন পরিচালনা করা হয়েছে এবং নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে। এ কারণে স্বল্প দূরত্বের রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের আজ যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রেনগুলো এক দিনের জন্য যাত্রা স্থগিত করায় ওই রুটের যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএনপির চাহিদার ভিত্তিতে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর, টাঙ্গাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরব বাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা- পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে রয়েছে শৃঙ্খলা টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম, মেডিকাল টিম, ট্রাফিকিং টিম।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য ও বিএনপি মনোনীত ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকা মহানগরসহ প্রতিটি জেলার নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, লাখ লাখ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
তিনি আরো জানান, সংবর্ধনা মঞ্চে শুধুমাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই আসন পাবেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। অনুষ্ঠানস্থলে আগত নেতাকর্মীদের জন্য থাকবে পর্যাপ্ত আসন। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে দেয়া হবে পানি ও বিস্কুট এবং সর্বদা প্রস্তুত থাকবে মেডিকাল টিম। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকবেন তারেক রহমান
দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকছেন তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করছে। এ ছাড়া পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় দুই হাজার সদস্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এয়ারপোর্ট থেকে ৩০০ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হসপিটাল এবং গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন পর্যন্ত পুরো পথটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। পুলিশের স্পেশাল এস্কর্ট ছাড়াও সাদা পোশাকে ও পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) সমন্বিতভাবে এই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকেই পুলিশের বিশেষ পাহারা শুরু হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে গুলশান পর্যন্ত প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বর্তমানে গুলশান ও বারিধারা এলাকায় যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে তার বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন দেড় শতাধিক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ