শিরোনাম
১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রীনিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীরঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিতরমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী১ সপ্তাহের মধ‍্যে গার্মেন্টস শিল্পে মজুরি বোর্ড: শ্রমমন্ত্রী‘মন খারাপ করার অধিকারও আপনার নেই, বললে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে’ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীউন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর করতে চাই: প্রধানমন্ত্রীনিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ খাদ্যমন্ত্রীরঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিতরমজানে স্বাভাবিক থাকবে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, বাড়ছে না ভোজ্য তেলের দাম: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইতিহাসে এই প্রথম জাপা আসনবিহীন

তারিক আল বান্না

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে একটি আসনও পায়নি জাতীয় পার্টি (জাপা)। এমনকি জাপার দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরেও লড়াই করতে পারেনি দলটি। জয়তো দূরের কথা, দ্বিতীয় স্থানও অর্জন করতে পারেননি দলের কোনো প্রার্থী। শীর্ষ দুই নেতা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী নিজ নিজ আসনে তৃতীয় হয়েছেন। জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার চার দশক পর এই প্রথম জাপা সংসদ নির্বাচনে কোনো সিট পায়নি। এবার রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে জিএম কাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তিনি এ আসন থেকেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে বিরোধী দলের নেতা হয়েছিলেন। একইভাবে গাইবান্ধা-১ আসনে শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। রংপুর অঞ্চলে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলাম।

রংপুর-১ আসনে জামায়াতের রায়হান সিরাজী ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন পান ৬৯ হাজার ১৩১ ভোট। রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এটিএম আজাহারুল ইসলাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পান ৮০ হাজার ৫৩৮ ভোট। রংপুর-৩ আসনে জামায়াতের মাহবুবার রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির শামসুজ্জামান সামু পান ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট। রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। রংপুর-৫ আসনে জামায়াতের গোলাম রব্বানী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির গোলাম রব্বানী পান ১ লাখ ১৫ হাজার ১১৬ ভোট। রংপুর-৬ আসনে জামায়াতের নুরুল আমীন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন। বিএনপির সাইফুল ইসলাম পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।

অপরদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি মরহুম হোসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে প্রতিষ্ঠা পায় জাতীয় পার্টি। তাদের অধীনেই তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ঐ বছরই ৭ মে। নির্বাচনে মোট ১,৫২৭ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে জয়লাভ করে। মোট ভোটারের ৬১.১% ভোট সংগৃহীত হয়েছিল। পূর্বের নির্বাচনের বিজয়ী বিএনপি এই নির্বাচনটি বর্জন করেছিল।

চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনটি বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রধান দলই বর্জন করেছিল; যেমন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (মুজাফ্ফর) এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয়লাভ করে, তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫১টি আসন লাভ করে। মোট ভোটারদের মধ্যে ৫২.৫% ভোট গৃহীত হয়েছিল। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ৪২৪জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭৫টি দল থেকে মোট ২৭৮৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয় লাভ করে। তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন লাভ করে।  আওয়ামী লীগ ৮৮ ও জাতীয় পার্টি ৩৫ আসনে জয়লাভ করে।

সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ২৮১জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৮১টি দল থেকে মোট ২৫৭৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে জোটগতভাবে সরকার গঠন করে। নির্বাচনে ১১৬, জাতীয় পার্টি ৩২ আসনে জয়লাভ করে। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া; আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের বিপরীতে ৪৮৪ জন সতন্ত্র প্রার্থীসহ ৫৪টি দল থেকে মোট ১৯৩৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়। এটি হলো ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন লতিফুর রহমান। বিএনপি ১৯৩, আওয়ামী লীগ ৬২, জাতীয় পার্টি ১৪ আসনে জয়ী হয়।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ চৌদ্দদলীয় মহাজোট গঠন করেন। অন্যদিকে, বিএনপি জামায়াতে ইসলামী সহ চারদলীয় জোট গঠন করে। আওয়ামী লীগ ২৩০, জাতীয় পার্টি ২৭, বিএনপি ৩০ আসন পায়।  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লিগ ও স্বতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।এছাড়াও নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ ২৩৪, জাতীয় পার্টি ৩৪ আসন পায়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আওয়ামী লীগ ২৮৩, জাতীয় পার্টি ২৬, বিএনপি ৭ আসনে জয়লাভ করে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের পরবর্তী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২২৪টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পায় ১১ আসন। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো আসনে জয় না পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। তবে প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি বেশ কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। হয়তো সেটাই তাদের নির্বাচনে কোনো আসন না পাওয়ার অন্যতম বড় কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

শেয়ার করুন: