শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

স্মরণীয় সংবর্ধনায় প্রস্তুত ঢাকা, আসছেন তারেক রহমান

ঐতিহাসিক গণজমায়েতের পরিকল্পনা বিএনপির

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাস ১৫ দিন পর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানসহ পাঁচজনকে নিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরই মধ্যে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে তিনি ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন এবং বিমানের বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে টিকিট বুকিং করেছেন। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দিবসকে স্মরণীয় রাখতে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনায় প্রস্তত  রয়েছে ঢাকা। একইসঙ্গে সংবর্ধনাস্থলে ঐতিহাসিক গণজমায়েতের পরিকল্পনা করছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।

সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরও পাঁচজন সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন তারেকের স্ত্রী জুবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। এছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজনেরও টিকিট বুকিং রয়েছে।

জুবাইদা রহমান গতকাল শনিবার লন্ডন চলে গেলেন। লন্ডন ফেরার দুদিন পরই আবার তিনি তারেক রহমানের সঙ্গী হয়ে দেশে ফিরবেন। ইমরান ট্রাভেলস নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিটগুলো বুকিং দেওয়া হয়েছে। নথি থেকে জানা যায়, তারেক রহমান বাদে বাকি যাত্রীরা ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। তবে তারেক রহমানের পাসপোর্টের কোনো তথ্য টিকিট বুকিংয়ে উল্লেখ নেই। তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। ব্রিটিশ পাসপোর্ট আছে কি না সেটা জানা যায়নি। সেক্ষেত্রে তাকে ট্রাভেল পাস নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

তারেক রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে দেশটিতে থাকা দলের নেতাকর্মীদের বিদায় জানাতে ভিড় না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশের বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আগামী ২৫ ডিসেম্বর কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ। দেশে ফিরলে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করতে বিশেষ আয়োজন করছে বিএনপি। বিশাল সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরমধ্যে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফুটে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা টিম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করছে। সরকারও বেশ সহযোগিতা করছে।

তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঘিরে সারাদেশের সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। ২৪ ডিসেম্বর রাতে ও ২৫ ডিসেম্বর সকালের মধ্যে আমাদের নেতাকর্মীরা কীভাবে বিমানবন্দরে পৌঁছবেন সে নির্দেশনাও ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সংবর্ধনা বিগত ৫৫ বছর ও আগামী ৫৫ বছরের জন্যও ঐতিহাসিক এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সে বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অভ্যর্থনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইতিহাসের স্মরণীয় জনসমাগম নিশ্চিত করতে কমিটি দিনরাত পরিশ্রম করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস স্মরণীয় করে রাখতে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতের পরিকল্পনা করছে দলটি। ইতোমধ্যে গুলশান কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। গঠন করা হয়েছে অভ্যর্থনা কমিটিও। তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’। কেনা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ি। প্রস্তুত করা হয়েছে গুলশানের বাসভবন। নতুন করে সাজানো হয়েছে গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ের কক্ষ।

এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা আসবেন। তাদের জন্য সাতটি লাইনে ট্রেন ভাড়া নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে বিএনপি। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস-ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহনে ঢাকায় আসবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, অভ্যর্থনা কমিটিতে বিএনপির ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবেরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। অভ্যর্থনা কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে অভ্যর্থনার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখানে তার মা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকায় আসার পর তারেক রহমান গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন। এই বাসার পাশেই ‘ফিরোজা’। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েক বছর ধরে এই বাসাতেই থাকছেন। এছাড়া গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের বসার জন্য কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যাক ছাত্র-জনতা ঢাকায় আসবেন। তাদের আসার সুবিধার্থে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ২৪ ডিসেম্বর রাতের বিভিন্ন রুটে রেলগাড়ি রিজার্ভ করতে ইচ্ছুক। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাড়া পরিশোধ করা হবে।

রেলপথ রুটের বিবরণ; ১. কক্সবাজার-ঢাকা, ২. সিলেট-ঢাকা, ৩. জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, ৪. টাঙ্গাইল-ঢাকা, ৫. চাঁপাইনব্বাগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, ৬. পঞ্চগড়-নিলফামারী-পার্বতীপু-ঢাকা, ৭. কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা। উল্লেখিত রুটে ১টি করে স্পেশাল ট্রেন/অতিরিক্ত বগি রিজার্ভ করার অনুমতি প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তিনি দেশে পা রাখার পর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই নিরাপত্তা আয়োজনের সূচনা হবে। দেশে ফেরার পর তিনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময় পাবেন পুলিশ প্রটেকশনসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তারেক রহমানের বাসভবন এবং অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তার ধারেকাছেও ভিড়তে দেবে না পুলিশ।

সূত্রমতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানার পর তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশপ্রধান বাহারুল আলম, ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। নিরাপত্তায় কোথাও যেন কোনো ফাঁক না থাকে এ বিষয়টি ভালোমতো তদারকি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার পর তাকে বহনকারী গাড়ির আগে পিছে পুলিশ প্রটেকশন দেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

পুলিশ প্রটেকশনের গাড়িসহ তারেক রহমানের কাছে যারা ডিউটি করবেন, তাদের ‘সিকিউরিটি ভেটিং’ শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে তদন্তের পর তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এ জন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে নানামুখী তদন্ত করবে। গোয়েন্দা তদন্তে যেসব পুলিশ সদস্যের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে না, তাদের তারেক রহমানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হবে না। ইউনিফর্মধারী পুুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নানা ছদ্মবেশে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন।

তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা তাকে পুলিশ প্রটেকশন দেব। এ ছাড়া আরও নানামুখী ব্যবস্থা থাকবে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই দিন তার নিরাপত্তা উপলক্ষে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসাটি কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় মোড়ানো থাকবে পুরো বাড়িটি। অনুমোদিত কাউকে এই বাড়ির আশপাশেই ভিড়তে দেওয়া হবে না।

সূত্রমতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময়ে আগামী ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে বিমানের ঢাকাগামী দুটি ফ্লাইটের সব শ্রেণির টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিমানের টিকিট না পেয়ে প্রবাসী নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ঢাকাগামী এয়ার টিকিট বুকিং দিচ্ছেন। কিন্তু ইতোমধ্যে ওই দুই দিনের লন্ডন থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে ঢাকাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে চায় তারা। ইতিমধ্যে গুলশান কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। দেশের জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাস। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনার আগেই তৃণমূল নেতাকর্মীরা নিজেরাই যানবাহন ভাড়া করছেন। শুধু ঢাকা নয়, দেশের সবগুলো জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। তারা বাস, ট্রাক, মাইক্রো, লঞ্চ, ট্রেন ও বিমানযোগে আসবেন। উত্তরাঞ্চলের জেলা উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের গাড়িবহর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে রাখা হবে। সেখান থেকে হেঁটে বিমানবন্দর সড়কে জড়ো হবেন তারা।

এছাড়া পূর্বাঞ্চলের জেলা উপজেলা থেকে নেতাকর্মীদের গাড়িবহর পূর্বাচলের তিনশ’ ফিট সড়কের উভয়পাশে খালি জায়গায় পার্কিং করা হবে। সেখান থেকে হেঁটে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর সড়কে আসবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেনে করে নেতাকর্মী আসবেন। বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। তাই সাধারণ মানুষের যানজটের ভোগান্তি এড়াতে তারেক রহমানের ফেরার ক্ষণটি বড়দিনের ছুটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে দলের সিনিয়র নেতারা থাকবেন। আর বিমানবন্দরের বাইরে থেকে গুলশান কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল। তবে বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমানের সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেজন্য বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা জানাবেন।

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে স্মরণীয় সংবর্ধনার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের আগমন ঘিরে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে।  বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের আমরা সংগঠিতভাবে বরণ করে নেব। এটি হবে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় সংবর্ধনা।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরী থেকেই ২০-২৫ লাখ মানুষের সমাগম সম্ভব, যদি দলীয় নেতাকর্মীরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমাদের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা চাইলে এটি কোনো কঠিন কাজ নয় যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শুধু সারাদেশের জেলা উপজেলা নয়, ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও নেতাকর্মী ঢাকায় আসবে। তারা নিজেরাই বাস-ট্রাক মাইক্রো ভাড়া করছে। ঢাকা মহানগরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, তারেক রহমান ফেরার খবরে দলের নেতাকর্মী ও দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে জোয়ার তৈরি হয়েছে। রাজনীতির ইতিহাসে খুবই স্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনটি। সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

সংবর্ধনাতারেক রহমানবিএনপি

শেয়ার করুন: