শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিশ্রুতির পসরা ভোট প্রার্থীদের

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ রাজনৈতিক দলগুলো। তরুণ ভোটারদের চাকরি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সর্বক্ষেত্রে সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

ভোটার আকর্ষণে প্রতিদিনই নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, কর্মিসভা, লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিসহ সব দলের মনোনীত প্রার্থীরা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের সমর্থন চান এবং বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি ও দলীয় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, জয়ের বিকল্প নেই- এই প্রত্যাশা মাথায় নিয়ে নিজ নিজ আসনের প্রতিটি এলাকায় সভা, সমাবেশ, মতবিনিময়, দলীয় ইশতেহার বিলি, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগকালে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টার কারণেই এসব প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মাঝে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই চলছে হিসাব-নিকাশ। বেশ কিছুদিন ধরে বাজার, মহল্লা ও জনবহুল এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেন প্রার্থীরা। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পও করেন অনেক প্রার্থী।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, জনগণের কাছ থেকে তারা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন এবং নির্বাচন ঘিরে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও সরেজমিনের তথ্যে উঠে এসেছে।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, তরুণ ভোটারদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রচার-প্রচারণা রয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা। তারা ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য এক বছরের ভাতা চালুর অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরা। এছাড়া দেশের সব জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাদের প্রচারণায় খাদ্য সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বীজ-সার ও অন্যান্য সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসা কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরছে বলে জানিয়েছে সূত্র। নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও বিএনপির প্রচারণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে তারা যোগ করেন।

বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন কৌশল রাখছে দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা। ভোটারদের আচরণ বিশ্লেষণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করেছে বিএনপি।

দলের সূত্র জানায়, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে দলের সম্ভাব্য স্লোগান হতে পারে তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষে পক্ষে হোক। ৩১ দফাসহ সাতটি প্রধান ইস্যুকে কেন্দ্র করে ঘরে ঘরে গিয়ে সরাসরি ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

দলীয় নেতারা জানান, খাতগুলো হলো- জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও ধর্মীয় বিষয়।

তারা আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই অঙ্গীকার তালিকা দলের ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনার ভিত্তিতে করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকটি দল শিগগির মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষমতায় গেলে বাস্তবায়নযোগ্য বেশকিছু প্রতিশ্রুতি বিএনপির লিফলেটে তুলে ধরা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ সুরক্ষা, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড চালু, পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছ রোপণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি দমনে বিশেষ উদ্যোগ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) মডেল অনুসরণ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনাও প্রচারণায় তুলে ধরবে দলটি। জলবায়ু ও পানি নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনরুদ্ধার, কমিউনিটি ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা পুনরায় চালু এবং আধুনিক তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকছে। আর্থিক সংকটে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা প্রদান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নিরসনে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। স্কুলপর্যায়ের পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া, শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর তত্ত্বাবধানে মূলধারার গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূলে প্রচারণা জোরদারে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে বিএনপি। সাত সদস্যবিশিষ্ট সাতটি দল গঠন করা হয়েছে, প্রতিটির জন্য আলাদা নেতা থাকছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, শীর্ষ নেতারা এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বেশি সময় দিচ্ছেন, দুর্বলতা চিহ্নিত করছেন এবং ভোটের আগে সেগুলো সমাধানে কাজ করছেন। যেখানে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব কম, সেখানে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছেন। তারা পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, ব্যাকআপ এজেন্ট প্রস্তুত এবং ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড টাঙাচ্ছেন। বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করছেন প্রার্থীরা। এসব আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার।

বিএনপির বিশÍস্থ সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশ পুনর্গঠনে প্রতিটি সেক্টরে কর্মপরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরছে বিএনপি। মোটাদাগে লিফলেটে দেশের উন্নয়নে বিএনপির কর্মপরিকল্পনা, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেবে, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে যেমন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য খাত, কৃষি ও খাদ্য, শিল্প খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রীড়া, প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ প্রতিটি সেক্টরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে আলাদা লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করবে বিএনপি। সূত্রমতে এর মধ্য দিয়েই কেন্দ্রীয়ভাবে প্রচার ও গণসংযোগে নামার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

এছাড়া প্রতিটি এলাকায় সুবিধা-অসুবিধা আর জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে লিফলেটে। তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য লিফলেটে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব লিফলেট দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ থাকবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবে, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সম্মান বজায় থাকবে এবং প্রত্যেকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। বিএনপি ইতোমধ্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নাজুক সামাজিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, বিপুলসংখ্যক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিনির্ভর কর্মমুখী শিক্ষা চালুর জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।

আমির খসরু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারা দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা চালু করবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি এখন থেকেই পরিকল্পনামাফিক কাজ শুরু করেছে। বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডে ওয়ান থেকে আমাদের পারফর্ম করতে হবে। এক কোটি মানুষকে চাকরি দেব, এটা আমরা হোমওয়ার্ক করেই বলেছি। দেশকে নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্র মেরামতে ৪১ দফাসহ নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হচ্ছে যেমন- শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য খাত, কৃষি ও খাদ্য, শিল্প খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রীড়া, প্রশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ প্রতিটি সেক্টরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে আলাদা লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করছে দলটির প্রার্থীরা।

এছাড়া প্রতিটি এলাকায় সুবিধা-অসুবিধা আর জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে লিফলেটে। তরুণ প্রজন্ম ও নারী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য লিফলেটে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব লিফলেট দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্যও নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশ থাকচ্ছে। প্রতটি ঘরে ইসলামের দাওয়াতের নামে নারীরা নামছেন ভোটার আর্কষণে।

দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাংলাদেশে বহুপ্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কতটা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনসম্পন্ন করতে পারবে, তা নিয়ে জনমনে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে জোরেশোরে তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। আর সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় কিছুদিনের মধ্যেই আমরা হয়তো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারও পেয়ে যাব। তবে দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক ইশতেহার ঘোষণার অনেক আগেই বিভিন্ন বক্তৃতা ও সভায় অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে কর্মজীবী নারীদের কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা থেকে কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করা হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে যৌতুককে জাদুঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র ওলামায়ে কেরামের। কাজেই দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে অর্ধেক নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক নেতারা নানা কৌশলী বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের  ভোটারদের কাছে টানতে বিভিন্ন কৌশলী রয়েছে দলটি।

এনসিপির সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের এক দফা ঘোষণার দিনে ‘দ্বিতীয় রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারসহ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাদের ইশতেহারে রয়েছে : নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, ন্যায়ভিত্তিক বিচার ব্যবস্থা ও আইন সংস্কার, সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জাতি গঠনে নতুন শিক্ষানীতি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্তার মর্যাদা, নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন, মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি, তারুণ্য ও কর্মসংস্থান, বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি, টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নগরায়ণ, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা, জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা, প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার, বাংলাদেশপন্থি পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল।

এ প্রসঙ্গে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। দেশের তরুণ ভোটার রয়েছে সাড়ে তিন কোটি। গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। তরুণ ভোটারাই এনসিপির আস্থা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

শেয়ার করুন: