সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন
এমপি হওয়ার দৌড়ঝাঁপে মন্ত্রী-এমপির স্ত্রী-কন্যারাও

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই মনোনয়নের দৌড়ে এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিকটাত্মীয়রা, বিশেষ করে তাদের স্ত্রী, কন্যারা। রাজনৈতিক মহলে বিষয়টিকে ‘পারিবারিক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ’ বা ‘কিংশিপ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তৃণমূলের ত্যাগী নারী নেত্রীদের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে-এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক মন্ত্রী ও এমপি তাদের এলাকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে এবং পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে স্ত্রী বা কন্যাদের প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে আসছেন। তাদের যুক্তি হলো, বিশ্বস্ত কাউকে সংসদে পাঠাতে পারলে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করা এবং রাজনৈতিক বলয় শক্তিশালী রাখা সহজ হবে।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা মধ্যে একটি অংশই দীর্ঘ দিন ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করা নারী নেত্রী। তবে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়দের এই দৌড়ে শামিল হওয়া তৃণমূলের নেত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ত্যাগী নেত্রী জানান, আমরা সারা বছর রাজপথে লড়াই করি, আর নির্বাচনের সময় দেখা যায় প্রভাবশালী নেতাদের অন্দরমহল থেকে এসে কেউ মনোনয়ন নিয়ে এমপি হবেন। এটি আমাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য হতাশাজনক।
কেন এই পারিবারিক দৌড়? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পারিবারিক পরিচয় সবসময়ই একটি বড় ভূমিকা পালন করে। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোট না থাকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দই এখানে মুখ্য। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছেন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। তারা তাদের স্ত্রী বা কন্যাদের জন্য লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের অংশগ্রহণ আরও সুসংহত হয়। বিশেষ করে যারা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি বা রাজনীতিতে নতুন, তাদের জন্য এই সংরক্ষিত আসনগুলো একটি সহজ পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে কিংশিপ বা পারিবারিক সম্পর্ককে একেবারে এড়িয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। দলের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, কার হাতে উঠবে ধানের শীষের টিকেট। তৃণমূলের দাবি, যেন কেবল পারিবারিক পরিচয়ে নয়, বরং রাজনৈতিক ত্যাগের মূল্যায়ন করে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম স্পষ্ট বলছেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ত্যাগী নেত্রীরাই অগ্রাধিকার পাবেন।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে যারা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন, তাদেরই আমরা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবিধানের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী যোগ্য নারীদের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করবেন। আমাদের সংসদ নেতা (প্রধানমন্ত্রী) সব দিক বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন যাতে সব সেকশনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত নির্ভুল হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় রয়েছে-২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে দলের ভরাডুবির মধ্যে বিজয়ী কক্সবাজার-১ আসনের হাসিনা আহমদ ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের রুমানা আহমেদ। ২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে হামলা-মামলার মধ্যেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বিগত সময়ে আন্দোলনে সংগ্রামে তাদের অবদান রয়েছে।
জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ এবং আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিণী রুমানা আহমেদ সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
এছাড়া নবম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপিরাও বিবেচনায় আছেন। সেই সময়ে সংসদের ভেতরে বক্তব্য দিয়ে তারা যেমন গরম রাখতেন, ঠিক তেমনি বিগত সময়েও আন্দোলনে-সংগ্রামেও তারা সক্রিয় ছিলেন। এরা হলেন- বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি, বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সহসম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
অষ্টম জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং ইয়াসমিন আরা হকও আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শিরীন সুলতানাও আলোচনায় আছেন। তিনি যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সহধর্মিণী। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহধর্মিণী সাবিনা ইয়াসমিন, কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, পটুয়াখালী-২ আসনের সালমা আলম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিন খান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী, বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের সহধর্মিণী শামীম আরা বেগম। স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন। শফিউল বারী বাবু কার্যক্রম আওয়ামী লীগ আমলে হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তার স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন অর্পণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে গুম খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান।
এছাড়া আলোচনায় আছেন মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, মরহুম মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম আরুণি, বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী। এ ছাড়া তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে বেড়ে ওঠা ছাত্রদল নেত্রী সাবেক ভিপি অধ্যাপিকা নাজমা সুলতানা ঝংকার।
শেরপুর-১ আসনে যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, যশোর-২ আসনে সাবিরা সুলতানা, ঢাকা-১৪ আসনে মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই তিনজনকে সংসদের সংরক্ষিত আসনে দেখার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া সংখ্যালঘু হিন্দু ও উপজাতীয় সম্প্রদায় থেকে ৫ জনকে নারী সংসদ সদস্য করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আরও আলোচনায় আছেন, যুগপৎ আন্দোলন শরিক দল ও জোট থেকে জেএসডির আ স ম রবের স্ত্রী তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার স্ত্রী মেহের নিগার, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকির স্ত্রী তসলিমা নাসরিন, গণসংহতি আন্দোলন শীর্ষ নেতা ট্রাক চাপায় নিহত আরিফুল ইসলামের স্ত্রী রেবাকা নীল, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোশরেকা অদিতি হক, (কাজী জাফরের জাতীয় পার্টি) মেয়ে জয়া কাজী, জাতীয় দলের এহসান হুদার স্ত্রী রোকসানা শারমিন, সমমনা জোট ডক্টর ফরিদুজ্জামান ফরহাদের স্ত্রী।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজপথের লড়াকু নেত্রী, মহিলা দল ও ছাত্রদল থেকে উঠে আসারা মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখরাও আলোচনায় আছেন। অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করছেন, আবার কেউ কেউ দলীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হচ্ছে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।
দলটির সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। প্রতিটি ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা এবং জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। প্রথম ফরমটি রিজভী তুলে দেন জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। দ্বিতীয় ফরমটি তুলে দেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদের হাতে। নিপুণ রায় চৌধুরী, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবিনা খান, শওকত আরা আখতার, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, মিনা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, বেগম মেহেরুন্নেসা হক, পেয়ারা মোস্তফার হাতে ফরম তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।
ইতোমধ্যে সংরক্ষিত আসনগুলোর জন্য মনোনয়নপত্র নেওয়া শুরু করেছেন প্রার্থীরা। বিএনপি থেকে মোট ৫২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিএনপির মনোনয়নপত্র নেওয়াদের মধ্যে রয়েছেন- মোহা. মনিরা বানু (ঠাকুরগাঁও), শাহেনেওয়াজ চৌধুরী (চট্টগ্রাম), অ্যাড. ফরিদা আকতার (চট্টগ্রাম), মমতাজ আক্তার (টাঙ্গাইল), ফারজানা রশিদ লাবনী (খুলনা), নিলুফা ইয়াছমিন খান, সায়েমা খাতুন, তাহমিনা বেগম রিপা, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, শাকিলা ফরহাদ বানু, কাজী নাজিয়া হক (কুমিল্লা), জিনাত আরা, কাজী মরিয়ম বেগম (ঢাকা), হাফেজা ফেরদৌস লিপন (সুনামগঞ্জ), তাহমিনা খান, রুবিনা আক্তার রুবা, শামিমা রহিম, মুনমুন তালুকদার, অ্যাড. তহমীনা আকতার হাসেমী, তাহসিন শারমিন তামান্না, রেহেনা পারভীন (কুমিল্লা), ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী (নোয়াখালী), খালেদা ইয়াছমিন, আফসানা মিমি, সানসিলা জেবরিন, আইরিন মাহবুব, সানজানা চৈতী পলি, শাহানা সুলতানা, সেলিনা আফরোজ, ডা. নাছিমা তালুকদার, নাসিমা আক্তার, কাওসার জাহান ফরিদা, রায়হান রহমান হেলেন, লাইলী, জেসমিনা খানম, ফরিদা ইয়াসমিন (ডোরা), মমতাজ বেগম (নয়ন), বেগম রাজিয়া আলম, সেলিনা পারভীন, হাবীবা আখতার পাপিয়া, অ্যাড. আয়শা আকতার সানজি, সায়মা আহমেদ, শাহীনুর বেগম (সাগর), মাহমুদা আক্তার, নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি, জিন্নাতুন নেছা জিনু, সামিরা আজিম, সুলতানা বেগম (আঁখি সুলতানা), খাদিজা বেগম, মাহমুদা সুলতানা এবং নিলোফার চৌধুরী মনি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেত্রী সামিরা আজিম দোলা বলেন, মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। আশা করি, দল আমাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধনকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে রাজপথে নির্যাতিত ও ত্যাগী নারী নেত্রীদেরই সংসদের সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করবে বিএনপি।
রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দলে থাকার কারণে বিএনপির নারী নেত্রীদের কারাবরণসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তাই দলীয় মনোনয়ন বোর্ড সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে-এটাই সবার প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানান।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান রিজভী। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলার সক্ষমতা।
প্রসঙ্গত, সংসদ নির্বাচনের ফল অনুযায়ী বিএনপি জোট সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬টি আসন পাবে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল শুরু, নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ