শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ছাত্রদলে

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব আসছে বিএনপির রাজপথ লড়াই-সংগ্রামের ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে। গত ১ মার্চ বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনে চলছে তোড়জোড়। বিএনপির হাইকমান্ড সরাসরি ছাত্রদলের এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং গোপন জরিপের মাধ্যমে পদপ্রত্যাশীদের আমলনামা যাচাই করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। কোনো বিতর্কিত ব্যক্তি যাতে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে না পারে, সে ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন দলটি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষনেতারা। এ সময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে দেশের সব মহানগর-জেলাসহ ইউনিট কমিটিগুলো সাজানোর কথা বলেন।  সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন-জুলাইয়ে ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন কমিটি বিগত দিনের মতো প্রেস বিজ্ঞপ্তি কিংবা সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূবেই ছাত্রদলকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। কাজেই নতুন কমিটি নিয়ে চলছে জোর গুঞ্জন। সেক্ষেত্রে ত্যাগী ও রাজপথে পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে কার্যকর ও গতিশীল একটি কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, ছাত্রদলে এমন এক নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা কেবল সাহসের সাথেই রাজপথে থাকবে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবে।

নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিশেষ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. মেধাবী ছাত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, ২. নেতৃত্বের বয়স নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক অবসান ঘটাতে একটি গ্রহণযোগ্য বয়সসীমা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে, ৩. বিগত বছর আন্দোলনে যারা জেল-জুলুম সহ্য করে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়নের জন্য বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে, ৪. কোনো প্রকার সিন্ডিকেট বা লবিংয়ের প্রভাবমুক্ত থেকে স্বচ্ছ ইমেজের অধিকারীদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখাগুলোর সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই পরিবর্তনের সংবাদে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রদল কর্মী জানান, আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন না, বরং প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।এদিকে, পদপ্রত্যাশীদের আমলনামা দেখছে বিএনপি শীর্ষ নেতারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেউ নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের তুলে ধরছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঘোষণা করা হতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কমিটিও।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের নতুন নেতৃত্বে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যারা; সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ২০০৭-০৮ সেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ২০০৮-০৯ সেশনের এজাজুল কবির রুয়েল, রিয়াদ রহমান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, এইচ এম আবু জাফর, খোরশেদ আলম সোহেল, সাফি ইসলাম, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেতের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে তৃণমূলে জোরালো গুঞ্জন ২০০৯-১০ সেশন থেকেই আসতে পারে মূল নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে আমানউল্লাহ আমান, মমিনুল ইসলাম জিসান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাসানুর রহমান হাসান, সালেহ মো. আদনান, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, এস এম মাহমুদুল হাসান রনি, শরিফ প্রধান শুভও আলোচনায় রয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ৯-১০ সেশনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফারুক হোসেন, ২০১০-১১ সেশনের গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, মাসুম বিল্লাহ, ২০১১-১২ সেশনের রাজু আহমেদ, নাছির উদ্দিন শাওন, ইব্রাহিম খলিল, গাজী সাদ্দাম হোসেন, তারেক হাসান মামুন, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, মাহমুদ ইসলাম কাজল ও শামীম আকতার শুভ। কেউ কেউ আবার ২০১৫-১৬ সেশনের ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামকে আলোচনায় রাখছেন।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, নতুন কমিটি গঠন দলের ধারাবাহিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে ছাত্রদলের কমিটি বা সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি নিজেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা ছিল। এখন মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় সেই প্রত্যাশা আরও তীব্র হয়েছে। সবাই এখন নতুন কমিটির অপেক্ষায় ‘চাতক পাখির মতো’ তাকিয়ে আছেন। এখন বৈরি রাজনৈতিক পরিবেশ নাই তাই এবার প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে নয়; আমরা চাই সরাসরি কাউন্সিলের মাধ্যমে আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে উঠুক। সেক্ষেত্রে অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে যাদের সর্ম্পক রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে কমিটির নেতৃত্ব উঠে আসবে; সংগঠনও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে। ফিরে আসবে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’; ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন। থাকবে না নিজস্ব বলয় তৈরির সুযোগ।

তারা বলছেন, মূল দল বিএনপি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা থমকে গেছে। অধিকাংশ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য সম্ভাব্য নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবশেষ ২৮ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে সংগঠনের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ছাত্রদলকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসাবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। ছাত্রদলকে ভবিষ্যতের একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসাবে দেখতে চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান সাধারন সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, গত ১ মার্চ আমাদের দুই বছর মেয়াদী কমিটির সময়সীমা শেষ হয়েছে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চাইবেন, তখনই নতুন কমিটি হবে। সংগঠনের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে; কিন্তু এখনই কমিটি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। অবশ্য সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদপ্রত্যাশীরা তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরছেন, যা আমাদের নজরে এসেছে। তবে কমিটির পরিবর্তনের চূড়ান্ত সময়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। সময় লাগতে পারে আবার নাও লাগতে পারে। কমিটিতে থাকা না থাকার বিষয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই আমার প্রাপ্তি।

সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় বেশকয়েকজন নেতা জানান, দীর্ঘদিন পর এবার ‘মাইম্যানমুক্ত’ নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন; সাবেক ছাত্রনেতারা তাদের ‘মাইম্যান’দের ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়ে এসেছিলেন সহসাই। এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। এখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি চেয়ারম্যান দলের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ; যা ছাত্রদলের নতুন কমিটির মধ্যে দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যথচলা শুরু হতে যাচ্ছে। যদিও এখনো নেতৃত্বের বয়স ও ‘ইলেকশন কিংবা সিলেকশন’ কোন পদ্ধতিতে কমিটি হবে সেটা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা নেই। তবে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রভাবমুক্ত কমিটি যেমন হতে পারে তেমনি শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন তা নির্ভর করছে কেবলমাত্র বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই।

ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী আমানউল্লাহ আমান বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে রাজপথে সক্রিয় ছিল, নির্যাতিত এবং যাদের সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, এমন মেধাবী, চারিত্রিকভাবে স্বচ্ছ ছাত্রদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।  একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী শিক্ষার্থীদের নতুন ধারার রাজনীতির সঙ্গে মানানসই ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব নির্বাচন করা জরুরি। 

আমানউল্লাহ আমান বলেন, নতুন কমিটির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সংগঠনকে গ্রুপিংমুক্ত রাখা। ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে এক সুতায় গাঁথা হবে নবাগত নেতৃত্বের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তবে যদি একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসে, তবে ছাত্রদল আবার তাদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

তিনি বলেন, ছাত্রদল ঐতিহাসিকভাবেই দেশের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। এই সংগঠনকে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত শক্তিশালী করতে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশল ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কাজেই ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মদক্ষতা বাড়ানো জরুরি বলেও মনে করছেন তিনি।

ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, গত ১৭ বছরে অসংখ্যবার নির্যাতন ও কারাবরণ করেছি। সুযোগ পেলে তারেক রহমানের ৩১ দফা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে ও ছাত্ররাজনীতিকে সমউপযোগী এবং নেতৃত্বের গতিশীলতা আনতে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হলে ভালো হবে। রাজপথে ছাত্রদলের পরীক্ষিত, যোগ্য ও নির্যাতিত এবং যাদের সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে তাদের মাধ্যমেই নতুন কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী শিক্ষার্থীদের নতুন ধারার রাজনীতির সঙ্গে মানানসই ও বিচরণ নেতৃত্ব নির্বাচন করাও জরুরি। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করবেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করবেন তাদের নিয়েই নতুন কমিটি গঠিত হলে ভালো হবে।

ঢাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে আলোচনায় যারা: ২০২৪ সালের ১ মার্চ গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে শাখা ছাত্রদলের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ এক বছর হওয়ায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন ঘিরে সম্ভাব্য সভাপতির তালিকায় উঠে এসেছে বেশকিছু নাম।

২০১২-১৩ সেশনের মাহবুব আলম শাহিন, ২০১৩-১৪ সেশনের ইমাম আল নাসের মিশুক, সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১৪-১৫ সেশনের বিএম কাউসার, সাইফ খান, ২০১৫-১৬ সেশনের আবিদুল ইসলাম খান, মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, ২০১৬-১৭ সেশনের আবু হায়াত মোহাম্মদ জুলফিকার জিসান, তানভীর হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের মো. মেহেদী হাসান, তানভীর আল হাদী মায়েদ, ২০১৮-১৯ সেশনের শেখ তানভীর বারী হামিমও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রসংগঠন হওয়া উচিত সম্পূর্ণ ক্লিন ইমেজের সংগঠন; যারা তাদের হলের সিট নিয়ে ভোগাবে না বা তাদের মুরব্বিরা ক্ষমতায় তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ে তা নিয়ে দাপট দেখাবে না ও ছাত্র নেতারা গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৌড়াবে না। যেকারণে নিকট অতীতে রাষ্ট্রপরিচালনায় থাকা রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা অনীহা কাজ করেছিল। তাই ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করার কথা বলে থাকলেও মূলত সংগঠনটি যেন ‘ভাইয়া’ নির্ভর না হয়ে পড়ে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা প্রকৃত ছাত্র এবং যাদের ছাত্রত্ব আছে, তাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠিত হবে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল

শেয়ার করুন: