বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন জরুরি
সরব সরকার নীরব দল

দীর্ঘ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম আর রাজনৈতিক দল ও সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনায় মুখর থাকা বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যূত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পলায়নের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আন্তরিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে সর্বোত্তম সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটের মধ্যদিয়ে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এরপর ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে চিফ হুইপসহ হুইপ হিসেবে সাত বিএনপি নেতা দায়িত্ব হন। একইসঙ্গে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দলটির ১০ জন নেতাকে উপদেষ্টা করা হয়। এছাড়া, কিছু নেতা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পরই দল হিসেবে বিএনপির কর্মকাণ্ডের চিত্র বদলে গেছে-এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, নতুন এই সরকারে বিএনপির নেতৃত্ব ও প্রভাব সুস্পষ্ট। তবে একটি বিষয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে-সরকার পরিচালনায় দলটির নেতারা যতটা সক্রিয় ও সরব, রাজনৈতিক দল হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিএনপি ততটাই নীরব। দেশের বিরাজমান কোন রাজনৈতিক দলের নেতা বা নেত্রীর বক্তব্য অথবা বিবৃতির জবাব দিতে হয় দল হিসেবে। সরকার থাকা কোন মন্ত্রী হিসেবে নয়। কাজেই দল হিসেবে বিএনপির কোন নেতা এখন পর্যন্ত বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি নেতাদের কোন কথা বা বক্তব্যে জবাব দেননি। কাজেই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা এখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত। কেউ সরাসরি সরকারে, কেউ বা উপদেষ্টার ভূমিকায়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের ব্যতিব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে, দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন বা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগের মতো সংবাদ সম্মেলন বা নেতাদের নিয়মিত আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে-মনে করছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির ভেতরে এক ধরনের সাংগঠনিক স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। সচিবালয় থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলটির নেতাদের দৌড়ঝাঁপ থাকলেও দলীয় কার্যালয় কিংবা রাজপথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই আগের চনমনে ভাবটি অনুপস্থিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াও গুলশানস্থ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ও নেতাকর্মী শূন্য। দলের মেজাজ এখন আর সংগঠনমূখী নয়, বরং প্রশাসনমুখী।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এক ধরনের দোটানার মধ্যে আছেন। দীর্ঘ সময় হামলা-মামলায় জর্জরিত থাকার পর এখন তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও দলীয় নির্দেশনার অভাবে অনেকে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে কর্মীরা জড়ালেও কেন্দ্রীয়ভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণের সাংগঠনিক কাঠামোটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তৃণমূলের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আগে জানতাম আমাদের কাজ কী-রাজপথে থাকা। এখন আমরা সরকারে আছি ঠিকই, কিন্তু দল হিসেবে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী, তা স্পষ্ট নয়। কেন্দ্রের নেতারা এখন নীতি নির্ধারণ নিয়ে ব্যস্ত, আমাদের খোঁজ নেওয়ার সময় তাদের কম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যেকোনো দল যখন দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হয় সরকার ও সংগঠনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। বিএনপি এখন সেই চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়েছে। দলটির পুরো মনোযোগ এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দিকে। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক ধরনের ‘ছুটি’ চলছে। তবে এই ‘নিরবতা’ দীর্ঘস্থায়ী হলে দলের জনভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণশক্তি হলো তার কর্মসূচি ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। সরকার পরিচালনা আর দল পরিচালনা যে এক নয়, সেই বাস্তবতা বিএনপিকে দ্রুত বুঝতে হবে। অবশ্য বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা এই ‘নিরবতা’র অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি নিরবতা নয়, বরং দায়িত্বশীলতা। তাদের দাবি, রাষ্ট্র এখন নতুন পথের যাত্রা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনআকাক্সক্ষা পূরণ করা।
দলের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা এখন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ গড়ার কাজ করছি। আমাদের নেতারা সরকারে থেকে সেই সংস্কার কাজে সহায়তা করছেন। এর মানে এই নয় যে দল নিরব। আমরা সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছি।
বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় দায়িত্ব ব্যস্ত হয়ে পড়ায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে বলে দলীয় পর্যবেক্ষণ। দলীয় কার্যালয়ে আগের মতো ভিড় নেই, রাজপথেও কর্মসূচির তৎপরতা কমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঈদুল ফিতরের পরপরই ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও বিভাজনের চিত্র পর্যালোচনা করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠন, আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা এবং প্রয়োজন হলে বিদ্যমান নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষ করে যেসব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এমপি, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে পূর্ণকালীন সাংগঠনিক নেতৃত্ব আনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সক্রিয়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ সরকারে থাকা মানেই সংগঠন শক্তিশালী-এমন ধারণা বাস্তবে টেকে না; বরং সংগঠন দুর্বল হলে সরকারের রাজনৈতিক ভিত্তিও নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় সরকার ও দল-দুই ধারাকে আলাদা গতিতে কিন্তু সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েই ঈদের পর বিএনপির পুনর্গঠন অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী কয়েক মাস রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের চ্যালেঞ্জ নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলের তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ না থাকলে ফল সম্পূর্ণরূপে ঘরে আসবে না বলেও তাদের আশঙ্কা। বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠন থেকে বেশ কয়েকজন এবার এমপি-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। ফলে সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব সংগঠনের কাজে মনোযোগ দিতে পাচ্ছে না। যেসব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব এমপি-প্রতিমন্ত্রী হয়ে গেছেন তাদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আনারও চিন্তাভাবনা করছে দলটি।
বিএনপি নেতাদের দাবি, একই নেতৃত্ব সংগঠন ও সরকারে থাকার কারণে সাংগঠনিক দুর্বলতা ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে। কারণ দলের প্রতি নিবেদিত হলেও সরকারে মনোযোগ দিতে গিয়ে সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, দল ও সরকার আলাদা করা উচিত। সরকারে থাকা ব্যক্তিরা অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। ফলে সংগঠনের গতি ফিরাতে সরকারের বাইরের নেতৃত্ব দায়িত্ব পালন করবে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, খুব শিগগিরই দলের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনে করণীয় নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতারা। এরপরই দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবেন।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বলছেন, মূল দল ও সংগঠনের নেতারা এমপি-মন্ত্রী হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছন্দপতন ঘটেছে। এখনই সংগঠন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। কারণ একসঙ্গে দল এবং সরকারের দায়িত্ব পালন করা কঠিন। বিশেষ করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে গতিশীল রাখতে সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব দরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপির সংগঠনগুলোর বেশ কয়েকটি কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব সংগঠনের কেউ কারও নেতৃত্ব মানছেন না। মতবিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাই শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের দাবিও তুলছেন পদপ্রত্যাশীরা।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বিএনপির অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও মহিলা দলে নেতৃত্বে পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অঙ্গসংগঠনগুলোয় সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন (এমপি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী (এমপি), সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান (প্রতিমন্ত্রী), কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করেছেন। তিনি পরাজিত হলেও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারি কাজের ব্যস্ততার কারণে এখন তারা সংগঠনের কার্যক্রমে সময় দিতে পারছেন না। তাদের অনুপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা সংগঠনমুখীও হচ্ছেন না। সবাই এখন সরকারমুখী। অনেকেই সচিবালয় ও মন্ত্রীদের বাসায় বাসায় শুভেচ্ছা জানাতেই ব্যস্ত। এসব কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মী রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগীদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলছেন।
২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের অধিক সময় পার হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়েই কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এসএম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অনেক ব্যক্তিকে পদ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বৃহত্তর অংশ বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের গঠিত কমিটির মেয়াদ ১ মার্চ (রোববার) শেষ হয়।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ওমর সানী বলেন, ছাত্রদলের গঠিত কমিটির মেয়াদ ২ বছর। সে হিসেবে ১ মার্চ শেষ হয়েছে। গত দের মাস আগে সংগঠনের সভাপতি বলছিলেন ঈদের আগেই কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার কথা বলছেন। আমি মনে করি, সংগঠনকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি দেয়া জরুরি।
তবে তিনি এও বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যখন চাইলে ঈদের পরই নতুন কমিটি করা হবে।
নতুন কমিটিতে আপনার প্রত্যাশা কি-জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমি সব সময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করে এসেছি। সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে নতুন কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বের আসনে রাখবেন-এটাই আমার প্রত্যাশা।
ওমর সানী বলেন, গণতান্ত্রিক ও মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছাত্রদল। সমাজ ও দেশের কল্যাণে ইতিবাচক রাজনীতির পাশাপাশি ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদে পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভোরের আকাশ/এসএইচ