শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কাল

জনস্রোত এখন ঢাকামুখী

মাজাহারুল ইাসলাম

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রধান কাণ্ডারিকে একনজর দেখতে এখন অধীর আগ্রহ নিয়ে রাজধানী ঢাকা আসছে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ। সড়ক, রেল ও নৌপথে ঢাকামুখী জনস্রোত। গত কয়েকদিন থেকেই ঢাকামুখী মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সড়কপথে ঢাকামুখী বাসের ছাদে চড়েও ঢাকায় আসছেন অনেকে। আবার অনেকে বাস না পেয়ে বিকল্প বাহনে চেপে ঢাকায় আসছেন। লঞ্চঘাটে চিত্রে পরিলক্ষিত হয়, ঢাকামুখী উপচেপড়া ভিড় শুধুমাত্র হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সেই কাঙ্খিত মানুষটিকে এক মুহূর্ত দেখার জন্য। প্রথম দেখা অনুভূতি কখনোই শুধু একটা সাধারণ মুহূর্ত নয়, বরং সেটা একটা নতুন গল্পের সূচনা। হয়তো একদিন সেটাই হবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিএনপি তথা দেশপ্রেমী মানুষের জন্য শুভ মুহূর্ত আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাস ১৫ দিন নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দুপুর ১২টায় জন্মভূমি প্রিয় বাংলাদেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশপ্রেমিক এই নেতা স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামবেন। তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটটি সিলেট হয়ে ঢাকায় নামবে। 
সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও আসছেন। এছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা আসছেন।

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির সর্বস্তরে আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘনিয়ে আসায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী জনস্রোত শুরু হয়েছে তাতে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগামীকাল রাজধানী মানুষের মহামিলন ও মহামেলায় পরিণত হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন দিবসকে স্মরণীয় রাখতে স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনায় প্রস্তত দলটি। একইসঙ্গে সংবর্ধনাস্থলে ঐতিহাসিক গণজমায়েতের পরিকল্পনা করছে দলটির নেতারা।

বিএনপি জানায়, এয়ারপোর্ট থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চে উঠবেন তারেক রহমান। সেখানে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। সমাবেশস্থল থেকে সরাসরি যাবেন এভারকেয়ার হসপিটালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। সেখানে মায়ের শয্যাপাশে কিছু সময় কাটিয়ে গুলশানের মায়ের বাসায় ফিরবেন। তারেক রহমানকে বরণ করতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে গঠিত হয়েছে একটি অভ্যর্থনা কমিটি। গঠিত হয়েছে শৃঙ্খলা টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম, মেডিকাল টিম, ট্রাফিকিং টিম। বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিলও করেছেন তারা। রঙ-বেরঙের টি শার্ট ও ক্যাপ এবং ব্যানার-ফেস্টুনও তৈরি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ইতিহাসের স্মরণীয় করার সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। দেশব্যাপী তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে জাগরণ শুরু হয়েছে। জেলা, উপজেলার নেতাকর্মীরা নিজেরাই ভাড়া করছেন, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস। বৃহস্পতিবার ভোর হতেই রাজধানীর চতুরপাশ থেকে আসা জনতার ঢলে জনসমূদ্রে পরিনত হবে। ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে ৩০০ ফিট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে লাখ লাখ নেতাকর্মী অবস্থান নিয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাবেন। এ জন্য বিদেশে থাকেন এমন অনেক নেতাকর্মী ঢাকার পথে পৌঁছেছেন।

৩০০ ফিটে মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩০০ ফিট এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমে ব্যস্ত শ্রমিকরা। রোববার দুপুর থেকেই মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৪৮ ফিট বাই ৩৬ ফিট মঞ্চ। সংবর্ধনা কমিটির সদস্যরা দিন-রাত তদারকি করে আয়োজনকে পূর্ণতা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং মহানগরের শীর্ষ নেতারা তদারকি করছেন। সোমবার রাজধানীর ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের জন্য তৈরি মঞ্চ ও আয়োজনের প্রস্তুতি দেখতে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমিনুল হকসহ সিনিয়র নেতারা। এই বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা আয়োজনের জন্য এরই মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য ও বিএনপি মনোনীত ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। ঢাকা মহানগরসহ প্রতিটি জেলার নেতাকর্মীদের সমন্বয়ের জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, লাখ লাখ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। তিনি আরো জানান, সংবর্ধনা মঞ্চে শুধুমাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই আসন পাবেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। অনুষ্ঠানস্থলে আগত নেতাকর্মীদের জন্য থাকবে পর্যাপ্ত আসন। অভ্যর্থনা কেন্দ্রে দেয়া হবে পানি ও বিস্কুট এবং সর্বদা প্রস্তুত থাকবে মেডিকাল টিম। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

বিভিন্ন রুটে ১০টি ট্রেন পেয়েছে বিএনপি
বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের উদ্দেশে বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ বরাদ্দ করছে রেলওয়ে। অন্যদিকে সেদিনের বিশেষ ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত চলাচলকারী তিনটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে রেলওয়ে। সোমবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, বিএনপির কর্মী ও সমর্থকদের যাতায়াতের জন্য ১০টি রুটে স্পেশাল (বিশেষ) ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে।

এ কারণে স্বল্প দূরত্বের রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত রাখা হবে। ট্রেনগুলো এক দিনের জন্য যাত্রা স্থগিত করায় ওই রুটের যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপির চাহিদার ভিত্তিতে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর, টাঙ্গাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল, ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা- পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।  উল্লেখ্য, এ বাবদ রেলওয়ের প্রায় ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব পাবে। বিশেষ ট্রেন এবং অতিরিক্ত কোচে দলীয় নেতাকর্মীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৫ প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকবেন তারেক রহমান
দেশের মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকবেন তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করবে। এ ছাড়া পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় দুই হাজার সদস্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। এয়ারপোর্ট থেকে ৩০০ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হসপিটাল এবং গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন পর্যন্ত পুরো পথটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। পুলিশের স্পেশাল এস্কর্ট ছাড়াও সাদা পোশাকে ও পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) সমন্বিতভাবে এই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকেই পুলিশের বিশেষ পাহারা শুরু হয়েছে।

এয়ারপোর্ট থেকে গুলশান পর্যন্ত প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন থাকছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নতুন করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বর্তমানে গুলশান ও বারিধারা এলাকায় যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে তা আরো জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে তার বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন দেড় শতাধিক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে এরই মধ্যে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।

বুলেট প্রুফ গাড়ি প্রস্তুত
তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন একটি বুলেট প্রুফ ‘হার্ড জিপ’ গাড়ি দেশে আনা হয়েছে। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এলসি ২৫০ মডেলের এই গাড়িটি এরই মধ্যে বিএনপি নামে নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া তার নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য বুলেটপ্রুফ বাসও দেশে এসেছে। বাসটি রোববার  চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হয়েছে। এটি আজ-কালের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছবে।

সমাবেশের ভেনু পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে। সেই জাগরণের প্রতিফলন ঘটবে আশা করছি। লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম ঘটবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি। বাকিটা সরকার দেখবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন পর দেশের আসার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। নোয়াখালী থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকায় যাবেন। ইতিমধ্যে আন্তঃজেলা সার্ভিসের সব বাস, ট্রাক, মাইক্রো ভাড়া হয়ে গেছে। অনেকে আগেরদিনই ঢাকায় অবস্থান করবেন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক আগমনে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে যুবদলের। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, উৎসুক নেতাকর্মী ও দেশপ্রেমিক জনগণের ভারে মুখরিত থাকবে ঢাকার রাজপথ।

তিনি বলেন, সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের দলে দলে ঢাকায় আসা শুরু হয়েছে। উৎসুক নেতাকর্মী ও দেশপ্রেমিক জনগণের ভারে মুখরিত থাকবে ঢাকার রাজপথ। ঢাকা মানুষের নগরীতে পরিণত হবে। ঢাকার কোথাও তিল ধারণের ঠাই থাকবে না। এবং সকলে এয়ারপোর্টে হয়তো যেতে পারবেনা। কিন্তু ঢাকায় এসে পৌঁছবে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেবার জন্য।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজকে পর্যন্ত এবং ভবিষ্যতেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই এইরকমের জনসমাগম ও ঐতিহাসিক ক্ষণ আর তৈরি হবে বলে আমি মনে করি না। ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি যেমন ঐতিহাসিক হবে আর ঢাকা শহরে মানুষের আগমনের মধ্য দিয়ে যে পরিমাণ সমাবেশ হবে সেটাও ঐতিহাসিক হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদ আন্দোলনে ধারাবাহিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। তিনি এখন আর বিএনপির নেতা নন। আমি মনে করি তিনি এখন বাংলাদেশের জন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এরই মধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এক লাখ লোক সমাগম করার টার্গেট নিয়েছি।

উল্লেখ্য, এক-এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান কারামুক্ত হয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনতারেক রহমানবিএনপি

শেয়ার করুন: