শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তারেক রহমান

রাজনীতি হতে হবে পলিসি নির্ভর

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি হতে হবে পলিসি নির্ভর। রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদাছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়নে করা হবে সেসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে ডিআরইউ'র কার্যনির্বাহী কমিটি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী, সিনিয়র সাংবাদিক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন সম্পাদক মো: মাজাহারুল ইসলাম।

ডিআরইউ’র নিরপেক্ষতায় ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোন দলকে সমর্থন করলেও কর্মক্ষেত্রে এর প্রতিফলন না ঘটানোই উত্তম। তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউ’র পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পারিবারিক মিলন মেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এসময় ডিআরইউর শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তার হাতে তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

স্বাধীন গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে গণমাধ্যম পুরো স্বাধীনতা ভোগ করবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করবে বিএনপি সরকার। 

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশি-বিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব স্যাটেলাইট সিটির সঙ্গে ঢাকার ট্রেন যোগাযোগ থাকবে, যেখানে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে রাজধানীর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি পুরান ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা পলিথিন উত্তোলন করে প্রায় দুই ফিট খনন করা গেলে নদী তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন করবে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সময় এখনই। সকল নাগরিক তার যথাযোগ্য মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন কোন দলের সদস্যরা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় আসবে। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।

ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি দেশ গঠনে দায়িত্ব পেলে সকলেই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে তিনি আশা করেন, ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত দরিদ্র্য পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করবেন। যার দরকার হবে না বা যিনি স্বচ্ছল তিনি এ কার্ড নিজেই ব্যবহার করবেন না।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগন যদি ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার দিবে বিএনপি।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকারও ইশতেহারে স্থান পাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানো, স্কুল পর্যায় থেকেই ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

তারেক রহমান বলেন, জনগনের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে প্রথমেই যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো গ্রহন করবেন। তার মতে, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদে’র সমন্বয়ে আটটি বিশেষ খাতের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই ইশতেহার। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষাসহ আটটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকছে।

ফ্যামিলি কার্ড
সরকারে গেলে বিএনপি প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পাবে। এটি নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

কৃষক কার্ড
কৃষকদের জন্য থাকবে বিশেষ কার্ড, যার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে। কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার সংযোগ তৈরি করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা
প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

শিক্ষা 
মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে চাহিদাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের সাথে শিক্ষার সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে।

ক্রীড়া
খেলাধুলাকে স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক করা হবে। পর্যাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।

পরিবেশ
নবায়নযোগ্য শক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়া হবে। এছাড়া জলবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সারা দেশে ২৫ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন ও পুনঃখনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্মসংস্থান
আইসিটি, ব্লু ইকোনমি, এসএমই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজা হবে।

ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন
প্রতিটি মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত ও পাদরিসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।

বিএনপি বরাবরই স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তারই প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, বিএনপি বরাবরই স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে উঠে আসা উচিত বিএনপি গণমানুষের জন্য যেসব কথা বলে সেগুলো। এক সংগঠন আরেক সংগঠনের বিরোধিতা করা এবং সেগুলোই যদি শুধু গণমাধ্যমে উঠে আসে, তাহলে হাততালি পাওয়া যাবে। কিন্তু গণমানুষের কোনো উপকার হবে না।

বিএনপি বরাবরই স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী উল্লেখ করে শিবলী বলেন, তারেক রহমান মনে করেন, তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এসময় ডিআরইউর সভাপতি সালেহ আকন বলেন, শোক জানানো এবং সংগঠনের একটি কর্মসূচিতে দাওয়াত দিতে এসেছি। তিনি দীর্ঘ সময় দিয়েছেন আমাদের। তার নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বাধীন গণমাধ্যম বিষয়েও আলাপ হয়েছে। এছাড়া ডিআরইউর অবকাঠামো নিয়ে কি করা যায় সে বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানান সালেহ আকন্দ।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সাংবাদিক নিপীড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে প্রণীত আইনগুলো বাতিলে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

ডিআরইউতারেক রহমান

শেয়ার করুন: