শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদ নির্বাচনে জয়ের টাগের্ট

ভোটার আকর্ষণে ব্যস্ত প্রার্থীরা

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র ৩৮ দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ২৯ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩০০ আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে চলবে আজ রোববার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে প্রায় শতাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে ইসি। তবে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে বলেও ইসি সূত্রে জানা গেছে।

নতুন বছরের শুরু থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের টাগের্টে নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে ভোটের মাঠের চিত্র পর্যালোচনা দেখা গেছে। তবে, গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শোকাচ্ছন্ন ছিল পুরো দেশ এবং এর প্রভাব পড়েছিল নির্বাচনী প্রচারণায়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত তিন দিনের শোক শেষ হয়েছে ২ জানুয়ারি। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও ঘোষিত ৭ দিনের শোক এখনও চলছে। ৩১ ডিসেম্বর আপসহীন এই নেত্রীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে ফিরে গেছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আবারও ভোটের মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত  প্রার্থীরা। এখন ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণের দিকেই নজর প্রার্থীদের। নানা তৎপরতার মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সাজাচ্ছেন তারা। এ কারণে উৎসবমুখর হয়ে উঠছে সারাদেশ।  নিজ নিজ দলের নেতাকর্মীসহ পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করছেন প্রার্থীরা।

তবে, দলীয় নেতাকর্মী- সমর্থকদের বাহিরে আওয়ামী ভোট ও তরুণ ভোটারদের আকর্ষণে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা-এমনটাই নজরে আসছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে। মনোনয়ন দাখিলের পরই দেশজুড়ে এখন নির্বাচনের আমেজ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী জোয়ারে মুখরিত গোটাদেশ-এমনটাই বলছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ যে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, সেই অধিকার ফিরে পেতে ১৮ কোটি মানুষ নির্বাচনের দিনটির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনটি হবে দেশে গণতন্ত্রণ উত্তোরণের দিন। একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বাংলাদেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসেছিল। যার মাধ্যমে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে নিয়েছিল। জনগণের ইচ্ছায়, সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে যখন একটি জবাবদিহি সরকার গঠন হবে তখন দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে- এমনটাই মনে করছেন তারা। সারাদেশে নির্বাচনের জোয়ারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিহাসের একটি সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাজেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করছেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ততই বাড়ছে। প্রধান দলগুলোর মধ্যে চলছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জোট গঠন এবং ভোটার কাছে টানতে তোড়জোড়। চলছে নানা সমীকরণ, যেখানে ছোট-বড় সব দলের প্রার্থীরাই নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিতে মরিয়া। দীর্ঘদিন পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের নজর এখন আসনভিত্তিক দলগুলোর প্রার্থীর দিকে। কে, কার সঙ্গে সমঝোতা করলো, আবার কার সঙ্গে জোট করলো, পাশাপাশি প্রার্থীর ইমেজের ওপরও নির্ভর করছে ভোট-এটাই তাদের অভিমত।

সংশ্লিষ্টদের ধারনা, এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বধীন জোট ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মূখ্য লড়াই হলেও জোট দুটির মধ্য আসন কিংবা ক্ষমতার সুষম বণ্টনের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন সমমনা জোট নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি দলের সভাপতি বা সেক্রেটারি নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে এসে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ফলে বিএনপিও তার সাংগঠনিক ভিত্তিকে আরও বিশাল রূপ দিচ্ছে। এরই মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা একে অন্যকে সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। আর কয়েকটি দলের নেতারা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। কাজেই ভোটের মাঠে শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত রয়েছে দলগুলোর প্রার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই-গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া। ১৭ বছর ধরে মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। যারা জীবন দিয়েছেন, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, চাকরি হারানোর শিকার হয়েছেন সেসব ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা আমাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। সবাই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি যে একটি সুশৃঙ্খল দল তা মানুষের কাছে মেসেজ পৌঁছাতে হবে। সবার কাজ এক হবে না কেউ বাড়ি বাড়ি  যাবেন, কেউ লিফলেট বিতরণ করবেন, কেউ এজেন্টে থাকবেন, কেউ প্রচারণা করবেন, সবাই মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এবার নির্বাচনি কাজ  করতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন, অতীতে নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকলে তা ভুলে যাবেন। বিএনপির জনগণের দল। জনগনকে সঙ্গে নিয়ে এই নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হবে।  

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাই। আমরা এত সংকীর্ণ নই যে, চেয়ারপারসনের মৃত্যুশোককে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করব। এই শক্তিকে আমরা জাতি বিনির্মাণে ব্যবহার করতে চাই।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল হয়েছে, জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভোট দিতে পারেননি। তারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টাও নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও তফসিল দিয়েছে। দেশকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনের কোনো বিকল্প ছিল না। এখন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ সব দল নির্বাচনের মাঠে নেমে গেছে। আশা করা হচ্ছে, এবার নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে বাড়ছে নতুন শক্তি 
হিসেব-নিকাশ ও দৌড়ঝাপ শেষে জামায়াত নেতৃত্বাধীন কয়েকটি ইসলামী দল ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা হয়েছে। তবে এই জোটের সঙ্গী হয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)ও।

দলগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের মাঠে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটে সবশেষ যুক্ত হয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

এরআগে গত সেপ্টেম্বর থেকে অভিন্ন কয়েকটি দাবিতে ঐক্যছিল জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল। জামায়াত ছাড়াও অন্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়ার লক্ষেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। তবে এই জোট এনসিপি যুক্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এই দলটির। ইতোমধ্যে নারী নেত্রীরাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছেন।

ধানের শীষের জন্য বিএনপিতে ঝুঁকছে ছোট দলগুলো 
অন্যদিকে বিএনপি তাদের শক্তি বৃদ্ধিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। গত কয়েক মাসে ছোট ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য একটাই দলীয় পরিচয়ে একীভূত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, সমমনা ছোট দলগুলোর নেতাদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সরাসরি কাজে লাগাতেই এই ‘একীভূতকরণ’ প্রক্রিয়া চলছে। এতে নির্বাচনে বড় ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন তারা।

জানা গেছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য বিএনপি এখন পর্যন্ত ১৫টি আসন ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে ৬টি দল বাদে বাকি শরিক দলের নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিশ্চিত করতে চারটি দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের দল বিলুপ্ত করে নেতাকর্মীসহ বিএনপিতে যোগ দেন। দুটি দলের মহাসচিব দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শরিক দলের পাঁচ নেতা ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন।

আরও জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে গত ৮ ডিসেম্বর নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বিএলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। নিজ দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এর পরপরই তাকে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করে বিএনপি।

এরপর সেলিমের পথ ধরেই বিএনপিতে যুক্ত হন ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এহসানুল হুদা। পরে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে। এরই মধ্যে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’র তিন শীর্ষ নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক (ঢাকা-১২) ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) আসনে প্রার্থী করেছে বিএনপি। মান্না দলীয় প্রতীক কেটলি, সাইফুল হক কোদাল ও জোনায়েদ সাকী মাথাল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে চারটি আসনে সমঝোতা হয়েছে বিএনপির। আসনগুলো হচ্ছে-সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নীলফামারী-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৪। দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, তাদের দলের সবাই দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এ ছাড়া এই দলের আবদুর রহিম ইসলামাবাদীর নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাছকে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসন ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষের ডিন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটে জয়ের চ্যালেঞ্জ, আরপিওর কঠোর শর্ত ও প্রতীক সংকটের মুখে অনেক রাজনীতিবিদ নিজ দল ছেড়ে বড় দলে যোগ দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে অধ্যাপক শামছুল আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামী  বেশ কিছু ইসলামী দলসহ এলডিপি, এনসিপি ও এবি পার্টি অন্তর্ভুক্তি করে ভোটের মাঠে জোট করেছে। ভোটারদের কাছে টানতে অথবা বিজয়ের জন্য এই জোট কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

শেয়ার করুন: