মোস্তাফিজুর রহমানকে কৃষি বা খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় নিয়ামতপুরবাসী

খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য খ্যাত দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৬, নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে কৃষিমন্ত্রী অথবা খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তিন উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
নওগাঁ-১ আসনটি নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার—এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ তিন উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ০৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৭ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিন উপজেলায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কৃষিখাতের উন্নয়নে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে।
নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা ধান ও আম উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার উৎপাদিত আম দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক সময় কৃষকদের ঋণের বোঝা নিয়েই চাষাবাদ চালিয়ে যেতে হয়।
এছাড়া তিন উপজেলায় প্রায় ৭০ হাজার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা মোট ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, যার আয়তন প্রায় ৯৬৫ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে পোরশা ও সাপাহার উপজেলা সীমান্তবর্তী ও অপেক্ষাকৃত দুর্গম হওয়ায় উন্নয়নের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের মতে, এই এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, ধান ও আম উৎপাদনের সম্ভাবনা এবং খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বিবেচনা করে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে কৃষি অথবা খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৬ ভোট পান। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ২০ হাজার ০৪৮ ভোট বেশি পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ভোরের আকাশ/আ.র