গণতন্ত্র হত্যার এক ভয়াবহ চিত্র
ফারুকের ওপর হারুন-বিপ্লবের হামলার ১৫ বছর আজ

আজ সেই ৬ জুলাই, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরার এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ২০১১ সালের এইদিনে তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ বাহিনী সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক এমপির ওপর যে বর্বর, পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল, তা ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যার এক ভয়াবহ চিত্র।
জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশ কর্তৃক ঢাকার শেরেবাংলা নগর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার হামলা ও হত্যার চেষ্টার ঘটনার ১৫ বছর আজ ৬ জুলাই। ২০২৬ সালের আজকের এই দিনে নতুন আলোয় দাঁড়িয়ে যখন আমরা পেছনে তাকাই, তখন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্যানভাসে একটি ছবি বারবার ভেগে ওঠে। সেটি কোনো সাধারণ ছবি নয়-তা ছিল একটি রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অনমনীয় প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।

সেদিন প্রকাশ্য রাজপথে তৎকালীন ডিসি হারুন অর রশীদ এবং এডিসি বিপ্লব কুমার সরকারের নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরা হয়েছিল, তখন বুক চিতিয়ে গর্জে উঠেছিলেন জয়নুল আবেদীন ফারুক। প্রকাশ্য, দিবালোকে, রাজপথে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছিল এই প্রবীণ সংসদ সদস্যের। রক্তাক্ত জয়নুল আবেদীন ফারুকের সেই বস্ত্রহীন, ক্ষতবিশত শরীর আর রাজপথে টিকে থাকার অদম্য লড়াই সেদিন প্রমাণ করেছিল-ফ্যাসীবাদের অন্ধকার কতটা ভয়ংকর হতে পারে।
সেদিনের সেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে দেশনেত্রী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আপোষহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলছিলেন, এই হামলা স্বৈরাচারের পতনের বীজ বপন করলো।
২০১১ সালের এইদিনে গণতন্ত্রের এক অগ্রনায়ক জয়নুল আবদিন ফারুকের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার চিত্র গোটা জাতির সামনে ভেসে উঠে। আজ তিনি মুক্ত বাতাসে, বীরের বেশে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তার এই টিকে থাকা এবং বিজয়ী হওয়া এক বীর।
কিন্তু ইতিহাস কি নির্মম, কিন্তু ইতিহাস বড় সত্য। ইতিহাস কখনো অপরাধীকে ক্ষমা করে না, সেই ২০১১ সালের ৬ জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের অহংকারের পতন ঘটে।

দম্ভের অবসান হয়েছে একসময়ের প্রতাপশালী ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ এবং যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। হারুন-বিপ্লবরা শেখ হাসিনার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পুরো ঢাককে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় যাদের নির্দেশে ঝরেছে শত শত ছাত্র-জনতার তাজা প্রাণ, ডিবি কার্যালয়কে যারা বানিয়েছিলেন, 'ভাতের হোটেল' আর মশকরার কেন্দ্রবিন্দু-আজ তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত।
৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পলায়নের ঘটনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৪ সালের ১৯আগষ্ট জয়নুল আবদিন ফারুক নিজেই বাদি হয়ে ডিবি হারুন ও বিপ্লবের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাত আরো ২০/২৫জনের বিরুদ্ধে শেরে বাংলা থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ আজ অবদি কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারে নি।
ভোরের আকাশ/এনএস