শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নজর অঙ্গসংগঠনে

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

*আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ও তৃণমূল বিএনপির বৈঠক 
*দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন হবে: ড. খন্দকার মোশাররফ
*অঙ্গ সংগঠনগুলো চাঙ্গা হলে মূল দলও শক্তিশালী হবে: জয়নুল আবদিন ফারুক

চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং কর্মকাণ্ড জোরদারে দৃষ্টি দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর দিয়েছেন এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা এবং বিভেদ দূর করা। একইসঙ্গে সরকারের নেওয়া জনকল্যানমূলক কর্মকাণ্ডগুলো জনগনের সামনে তুলে ধরা। সে লক্ষ্যেই জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার হচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিদের্শনা দেওয়ার পরপরই অঙ্গসংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পরই থানা, জেলা ও বিভাগসহ প্রতিটি শাখায় কমিটি কারার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে ছাত্রদল। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে।

সংগঠনের সূত্রে জানা যায়, বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে ১৫১ সদস্য ও ২৫১ সদস্যের দুটি কমিটি জমা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। তবে হাইকমান্ড ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু যুবদলের নেতৃবৃন্দ চাইছেন কমিটি ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট হোক। কারণ এতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত বেশি সংখ্যক নেতাদের স্থান দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না।

অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন, দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আজ (শনিবার) সাংগঠনিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে অংশ নিবেন সারাদেশের জেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা।

দলের একাধিক সূত্র বলছে, ওই বৈঠকে ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে দল, সরকার, স্থানীয় সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পর্কে অবগত হবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, অনেক জেলা ও মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে। অভিজ্ঞ ও মাঠ পর্যায়ের নেতাদের ফিরিয়ে এনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একটি ‘চৌকস কমিটি’ গঠনের বিষয়ে বিশেষ নিদের্শনা থাকছে ওই বৈঠকে।

স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সমন্বয়হীনতা এবং কিছু নেতাকর্মীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এখন সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির দপ্তর থেকে জানা যায়, শুধু নামমাত্র কমিটি নয়, বরং সংগঠনকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করে করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, দলের সহযোগী সংগঠনগুলোই হলো মূল শক্তির উৎস। দীর্ঘ সময় ধরে অনেক সংগঠনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকা বা নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বের কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা বাড়াতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের ওপর। এই দুই সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, জাসাস ও মৎস্যজীবী দলকেও ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে যারা দুর্দিনে দলের পাশে ছিলেন এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠন হবে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি বলেছেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ নির্বাচনের আগেই করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

আরও পড়ুন

নতুন পে স্কেলে দ্বিগুণ হচ্ছে যাদের পেনশন

তিনি বলেন, দলকে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে হলে সময়োপযোগী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। কাজেই অঙ্গ সংগঠনগুলো চাঙ্গা হলে মূল দলও শক্তিশালী হবে। তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং তা দলের রাজনৈতিক শক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিএনপির এই নেতা।

এ প্রসঙ্গে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে দায়িত্ব বণ্টন সুনির্দিষ্ট হবে, যার ফলে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন এবং তদারকি করা সহজ হবে। তিনি বলেন, কেবল রাজধানী নয়, বরং গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত যুবদলের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির মূল অ্যাসাইনমেন্ট। সংগঠনকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, সেই কৌশল প্রণয়নেও গুরুত্ব দিবে সংগঠনটি বলছেন যুবদলের এই নেতা। 

ভোরের আকাশ/এনএস

বিএনপি

শেয়ার করুন: