দুই কিডনি বিকল বিএনপি নেতা লতিফের, চিকিৎসায় প্রয়োজন ১৫ লাখ টাকা

ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির মূল দলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ আকাশ।
ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তিনি। অথচ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দুই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছে তার। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করেও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না।
একটি কিডনি পাওয়া গেলেও অর্থের অভাবে প্রতিস্থাপন করাতে পারছেন না। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেও দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
আশুলিয়ার এই বিএনপি নেতার চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে এগিয়ে এসেছে স্বকল্প সমাজ কল্যাণ সংস্থা। তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আয়োজন করা হয়েছে চ্যারিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এতে আশুলিয়া ইউনিয়ন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন, ইয়ারপুর ইউনিয়ন ও ধামসোনা ইউনিয়নের দলগুলো অংশ নেবে।
আব্দুল লতিফ আকাশ বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির মূল দলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছি। ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে রাজনীতি করেছি। দলের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু আজ জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে এসে দুই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছি। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে, অথচ চিকিৎসার ব্যয় বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। একটি কিডনি পাওয়া গেলেও টাকার অভাবে প্রতিস্থাপন করাতে পারছি না।
দুঃখের বিষয়, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরও আজ এই চরম দুর্দিনে দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। রাজনীতির সুসময়ে অনেকের সঙ্গে পথচলা হয়েছে, কিন্তু আজ যখন জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইতে হচ্ছে, তখন নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে। আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না; শুধু বলতে চাই, দলের জন্য কাজ করা একজন কর্মী যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন তার পাশে দাঁড়ানো কি দলের নেতাকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব নয়?
চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই অর্থের অভাবে যদি চিকিৎসা করাতে না পেরে আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? আমি কারও কাছে বিলাসী জীবন চাই না, শুধু বেঁচে থাকার সুযোগ চাই। দলের নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে যাঁদের সঙ্গে রাজনীতি করেছি, তাদের কাছে আমার আকুল আবেদন-আমার এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়ান। আমি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।
এদিকে, আব্দুল লতিফের চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহের জন্য আয়োজিত চ্যারিটি ফুটবল টুর্নামেন্টকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়; বরং একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা। টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ তার চিকিৎসায় ব্যয় করার লক্ষ্য রয়েছে।
আয়োজকরা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষদের আব্দুল লতিফের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে তার।
চ্যারিটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশুলিয়া থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল হোসাইন মুন্সি, ঢাকা জেলা ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান দেওয়ান, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার আজীজুল হক মীর, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম, প্রধান এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন প্রধান, থানা ছাত্রদলের সভাপতি সানোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হাবিব, ধামসোনা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রধান ও ওসমান গনি। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলার পর অসুস্থ অবস্থায় আব্দুল লতিফের এই অসহায়ত্ব এখন মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা গেলে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোরের আকাশ/আ.র