জামায়াত আমির
সরকারি দল জুলাইকে উপেক্ষা করেছে

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত হয়েছেন।
পরে সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলেও জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেন এই শপথ নিয়েছেন, সেই ব্যাখ্যা দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, সরকারি দল এই শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা করেছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন আসতে পারে, আমরা কেন দুইটা শপথ নিলাম আর উনারা (বিএনপি) কেন একটা নিলেন? উনারা কেন একটি শপথ নিলেন, তার ব্যাখ্যা উনারাই দিয়েছেন।
তবে আমরা যে ব্যাখ্যাটা দিতে চাই, তা হলো আমরা মনে করি, ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল না। এই নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কারণে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা হয়তো শপথ নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করতে পারতাম। কিন্তু জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং গণভোটের রায়—এই দুটির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব বলে গণ্য করেছি।
আমরা গণভোটের রায়কে সম্মান করেছি, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেছি এবং যাঁরা আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরকেও সম্মান জানিয়েছি। আমরা একমত হয়েছি যে এই শপথ নেওয়া আমাদের কর্তব্য।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল এই শপথ না নিয়ে জুলাইকে উপেক্ষা করেছেন। এতে জন-আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান ফুটে উঠেছে।
সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান আজ স্পষ্ট। তারা ব্যাখ্যায় বলেছেন যে সংসদ বসে পরবর্তী সময়ে প্রভিশন তৈরি করে তাঁরা এটা দেখবেন। আমরা এটা দ্রুত দেখতে চাই—যদি সত্যিই তাঁরা জুলাইকে সম্মান করেন, যদি সংস্কারকে তাঁরা ধারণ করেন।’
উভয় পক্ষই দুটি শপথ নেওয়ার পর বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথে অংশ নেওয়ার কথা ছিল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে তিনটি করে কার্ডও পেয়েছিলাম এবং আমাদের মানসিক প্রস্তুতিও ছিল।
কিন্তু এখানে এসে আমরা ধাক্কা খেয়েছি। আমরা আমাদের জুলাইয়ের শহীদদের অশ্রদ্ধা করতে পারি না, জুলাইয়ের যোদ্ধাদের অশ্রদ্ধা করতে পারি না।
যার কারণে আমাদের শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিকেলের এই শপথ অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করতে পারলাম না—এটি আমাদের একটি বড় আফসোসের জায়গা হয়ে থেকে গেল।’
ভোরের আকাশ/নি. ব