শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ যুবদল কমিটি

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ যুবদল কমিটি
শিগগিরই ঢাকা দক্ষিণ যুবদল কমিটি

*শীর্ষ নেতৃত্বে আলোচনায় সজল-জ্যাকি

রাজধানীর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলার পর অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী কমিটি পেতে যাচ্ছে বিএনপির এই প্রভাবশালী সহযোগী সংগঠনটি। সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই কমিটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিএনপির হাইকমান্ড ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির লক্ষ্য হলো, রাজধানীর রাজপথে আগামী দিনের যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে একটি গতিশীল নেতৃত্ব তৈরি করা। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এলাকাটি সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে দক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের শীর্ষ পদে সাবেক দুই ছাত্রনেতার নাম উঠে আসছে, সভাপতি হিসেবে ফয়সাল আহমেদ সজল ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি।  ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে এই দুই নেতার। বিশেষ করে সরকারের বিরোধী আন্দোলন, অবরোধ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাদেরকে “ক্লিন ইমেজের সংগঠক” হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল আহমেদ সজল মূলত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল-এর রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত সংগঠক। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অর্থনীতি বিভাগের (হল মর্যাদা) আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে টিপু - সাত্তার কমিটিতে সদস্য, সাত্তার - পারভেজ কমিটিতে সহ-সম্পাদক, পারভেজ -খোকন কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং শাহীন - খলিল কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকাকালীন, ক্যাম্পাস না ছাড়ার কারণে, ছাত্রলীগের দ্বারা অসংখ্যবার আমরা শিকার হন। তবুও তিনি দায়িত্বে থাকা অব্দি ক্যাম্পাস ছাড়েননি। ঢাকা মহানগরে ৬টি থানায় ৩২ টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামি হন সজল। এপর্যন্ত ৪ বার কারাবরণ করেছেন ও ১৬ মাসের অধিক সময় কারাবাসে ছিলেন। ১৬ দিন রিমান্ডের নামে নির্যাতনেরও শিকার হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে  ২ মামলায় ২ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন। সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্বের পর কেন্দ্রীয় ছাত্ররাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন সজল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়গুলোতে মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ ধরে রাখার কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও তিনি একজন নির্ভরযোগ্য সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে রাজধানীতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করেছে। অন্যদিকে শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। তিনি ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদল-এর সাবেক আহ্বায়ক এবং ধানমন্ডি থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত একজন রাজপথকেন্দ্রিক সংগঠক হিসেবে, যিনি আন্দোলনের কঠিন সময়েও মাঠ ছাড়েননি।

বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে জ্যাকিকে। ঢাকা মহানগরে ৮টি থানায় ৮৬টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামি জ্যাকি। এপর্যন্ত ৫ বার কারাবরণ করেন ও ৮ মাসের অধিক সময় কারাবাসে ছিলেন। ২৭ দিন রিমান্ডের নামে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রদল বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে।  পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল। শুধু সাংগঠনিক দায়িত্বেই নয়, মাঠের আন্দোলনেও জ্যাকির সরব উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অবরোধ, মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তাকে নিয়মিত নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে খিলগাঁও এলাকায় তার নেতৃত্বে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না: সিইসি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্ররাজনীতি করে উঠে আসা এবং ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা নেতাদের প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের আলাদা আস্থা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী ও মাঠকেন্দ্রিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই বাস্তবতায় ফয়সাল আহমেদ সজল ও শেখ খালিদ হাসান জ্যাকিকে ঘিরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে মনে করছে, সজল-জ্যাকি কমিটি হলে প্রত্যেক থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট কমিটিগুলো সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে পারবে। এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার সুযোগও তৈরি হবে।

মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীর মতে, “ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব” এখন সময়ের দাবি। আর সেই বিবেচনায় ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই দুই নেতাকে ঘিরেই এখন দক্ষিন যুবদলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এবং সব ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই কমিটি ঘোষণা হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে বলেও জানা গেছে।

ভোরের আকাশ/এনএস

ঢাকা দক্ষিণ যুবদল কমিটি

শেয়ার করুন: