রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ
সমঝোতা নাকি জোট

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও ঘোষণা করছেন। কোন দল আবার প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। যে দলগুলোর এখনও ঘোষণা করেনি, চলতি মাসের প্রথমার্ধের মধ্যেই সে দলগুলোর প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা দেওয়া হবে- দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একইসঙ্গে শীর্ষ দলের সঙ্গে ভোটের মাঠে জোট অথবা আসন সমঝোতা নিয়েও দরকষাকষি চলছে- যা বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সবকিছু মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো পুরোদমে এখন নির্বাচনমুখী মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সরকারে থাকা অথবা বিরোধী দলে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিল সমীকরণ নিয়ে এগোচ্ছে দলগুলো। বেশকিছু ছোট ছোট দল চায় শীর্ষ দলের সঙ্গে জোটে ভোট করতে। জামায়াতে ইসলামী চায় জোটে নয়, আসন সমঝোতা। আবার এনসিপি চায় নিজ পায়ে দাড়াঁতে। তবে আড়ালে থাকছে আসন সমঝোতা।
অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই ভোটের মাঠে তৎপর দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি- এমনটাই ভাবছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির সূত্রে মতে, তিনশত আসনের মধ্যে দুশত সাইত্রিশ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন বিএনপি। সোমবার ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে দলীয় প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার প্রার্থিতা স্থগিত করেছে বিএনপি। এরফলে আন্দোলনের শরিক দলগুলোর জন্য ৬৪টি আসন ফাঁকা রয়েছে। এসব আসনে দলটি প্রার্থী না দিয়ে শরিক ও সমমনাদের জন্য অন্তত ৪৫ থেকে ৫০টি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি আসনগুলোয় দলের প্রার্থীর মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সূত্র বলছে, যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার-গণফোরাম, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় দল (বিজেডি), জেএসডি, খেলাফত মজলিসসহ অন্তত ১২টি দলের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হয়েছে বা আলোচনাধীন। পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)কেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
সূত্র মতে, ৪৫ থেকে ৫০ আসন পেতে পারেন শরিকরা। এ ছাড়া ফাঁকা থাকা ঢাকার ৭টি এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, বিজেপি, এনডিএম ও খেলাফত মজলিসকে দেওয়া হতে পারে। বাকি ১৫ আসনে বিএনপি নেতারা মনোনয়ন পেতে পারেন। এসব আসনে সীমানা জটিলতা ও একাধিক হেভিওয়েট দলীয় প্রার্থী থাকায় ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা কিছু আসন বিগত দিনের শরিক দলদের সমর্থনের জন্য রেখে দিয়েছি, যেটা তাদের আলাদা সম্মান। আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, যেসব আসনে তারা আগ্রহী, সে আসনগুলোতে আমরা কোনো প্রার্থী দিইনি আপাতত দেবও না। আমরা আশা করছি, তারা তাদের নাম ঘোষণা করবেন, তখন আমরা সব কিছু চূড়ান্ত করব।
জামায়াতের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ছয়টি ইসলামীদলও জোট অথবা আসনভিত্তিক সমঝোতায় ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
এক্ষেত্রে ৩০০ আসনের মধ্যে একশ আসন দাবি করছে ইসলামী আন্দোলন, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস চাইছে ৫০টি আসন, আর বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফতে আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস দাবি ৭০ আসন। তবে এর সঙ্গে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ডেভেলপমেন্ট পার্টিসহ আরো কিছু দল যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াত কোনো জোট গঠন করবে না। তবে নির্বাচনী সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। নির্বাচন না হলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা ৩০০ আসন চূড়ান্ত করেছি, প্রাথমিক বাছাই হয়ে গেছে, তবে যাদের সঙ্গে আমরা সমঝোতা করবো, যাদের সঙ্গে ঐক্য হবে, যে কয়টি দলের সঙ্গেই হোক, কিছু সিট তো আমাদের ছাড়া লাগবে, তা নাহলে তো ঐক্য হবে না।
খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ইসলামী স্বার্থে আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ হতে যাচ্ছি। আমাদের অন্তত অর্ধশতাধিক প্রার্থী ঠিক আছে। যারা শক্ত অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ বলেন, যেখানে যে দল ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে সেখানে তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো বলে আশা করছি। তবে তফসিল ঘোষণার পরপরই আমাদের অবস্থান সবাইকে জানাবো।
এনসিপি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশত আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে নির্বাচন করতে প্রস্তুত দলটি। তবে জোট নয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির অনানুষ্ঠাকিভাবে যোগাযোগ চলছে। এনসিপি আসন সমঝোতা করতে চায়। তার মধ্যে ঢাকায় চারটি আসন চাচ্ছে দলটি। দুই দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপি প্রয়োজনে প্রার্থী তুলে নেবে।
এদিকে, বিএনপির একটি সূত্র বলছে, এনসিপি আসন সমঝোতা চায়, তবে বিএনপির দিক থেকে স্পষ্ট করে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এককভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। তিনশত আসনেই নির্বাচন করার লক্ষ্য দলটির। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেসব আসন থেকে প্রার্থী হবেন, সেসব আসনে প্রার্থী দেবে না এনসিপি।
সমঝোতা বা জোট প্রসঙ্গে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সমঝোতা বা জোট এটা একটি রাজনৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে। যেমন জুলাই সনদের বিষয়টি রয়েছে। এ সনদে আমাদের সংস্কারের দাবিগুলোর সঙ্গে যদি কোনো দল সংহতি প্রকাশ করে, সে ক্ষেত্রে হয়ত আমরা জোটের সিদ্ধান্ত নেবো। এখনও পর্যন্ত আমরা এককভাবেই নির্বাচনের জন্য আগাচ্ছি। এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে জানান তিনি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, জোট কিংবা আসন সমঝোতার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও যাচাই-বাছাই চলছে। বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা চলছে। আমরা আগামী সপ্তাহে প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করব। সারা দেশে আমাদের সক্ষমতা তৈরি করতে চাই- অন্তত যেন প্রতিটি আসনে আমাদের প্রার্থী থাকে। এরপর পরিস্থিতি অনুযায়ী সমঝোতা বা জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জোট গঠন প্রসঙ্গে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, এনসিপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ইলেকটোরাল অ্যালায়েন্স (নির্বাচনী জোট) করবে কি না। যদি করে অবশ্যই এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে করবে, তা হচ্ছে- যারা আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের প্রতিটি সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে, যারা বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করবে, যারা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থান ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান থাকলে এনসিপি তাদের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করতে পারে।
প্রার্থী তালিকা জমা না দিলেও বিএনপির সঙ্গে ছয় দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ এবং গণঅধিকার পরিষদের আলোচনা চলছে। বিএনপির সঙ্গে অর্ধশত আসনে ‘সমঝোতা’ চায় গণতন্ত্র মঞ্চ। গত ২৮ অক্টোবর প্রথম দফার বৈঠকে মঞ্চের শীর্ষ ছয় নেতার নির্বাচনী আসন অর্থাৎ তারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, সে ব্যাপারে জানতে চেয়েছে বিএনপি।
গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা জানিয়েছেন, শীর্ষ ছয় নেতার আসনের ব্যাপারে সমঝোতা হলে বিএনপির সঙ্গে মঞ্চের বাকি প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদও শিগগির বিএনপিকে ৩০ জনের তালিকা দিতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের অর্ধশত আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। তবে বিএনপির সঙ্গে আমরা কোনো জোটের চিন্তা করছি না, হলে আসন সমঝোতা হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের কথা বলেছে।
এ ব্যাপারে গণঅধিকার পরিষদ ইতিবাচক। আগামী নির্বাচন একসঙ্গে করার ব্যাপারে এখন বিএনপির সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আমাদের কাছে প্রার্থী তালিকা চেয়েছিল। আমরা এখন পর্যন্ত সে তালিকা প্রস্তুত করতে পারিনি। আশা করছি, তালিকাসহ শিগগির তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণফোরামের জন্য ছাড় দিতে পারে ঢাকা-৭ সুব্রত চৌধুরী ও নরসিংদী-৩ আসন জগলুল হায়দার আফ্রিক। এদিকে ঢাকা-৭ আসন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হককে দেওয়া হতে পারে, এমন আলোচনাও আছে। তিনি ঢাকায় নির্বাচন না করে বাগেরহাট-১ আসন থেকেও ভোটে অংশ নিতে পারেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসনই দেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইদহ-২ পাচ্ছেন তারই দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। দুইটি আসন ছাড়ের সংকেত পেয়েছে এলডিপিও। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে প্রার্থী হতে পারে দলের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বা তার ছেলে ওমর ফারুক।
এছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে লড়বেন দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ। পিরোজপুর-১ আসনে সংকেত পেয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এহসানুল হুদাকে ছাড় দেওয়ার কথাও জানা গেছে বিএনপি সূত্রে।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের পেছনে ফেলে সবুজ সংকেত পেতে পারেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নড়াইল-২ আসনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
এদিকে, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে লড়তে পারেন জেএসডির আসম আব্দুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব। খালি আছে ঝালকাঠি ১ আসনও। একইভাবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি ও হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিবের জন্য খালি আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ