দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে: ডা. জাহিদ

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যকে দৃঢ় করব এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা রাজপথে থাকব। যত ষড়যন্ত্রই আসুক, দেশবিরোধী যত ষড়যন্ত্র আসুক, স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্র আসুক, সকল ষড়যন্ত্রকে আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করার জন্য আজ শপথ নিতে চাই। সবাইকে রাজপথে থাকারও আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১২ দলীয় জোটের উদ্যোগে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন ও নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত রুখে দাও’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ বলেন, আমি ১২ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা অতীতে গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলনে আমাদের সাথে ছিলেন, এখনো আছেন। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আগামী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযাত্রায়ও ইনশাআল্লাহ আপনারা তার পাশে থাকবেন—এই প্রত্যাশা করি।
আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশ কেমন ধরনের হবে? স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন হবে? আইনের শাসনের কী অবস্থা হবে? কৃষি ব্যবস্থা কী হবে এবং জনপ্রশাসন কেমন হবে? সর্বোপরি মানুষ কিভাবে তার প্রয়োজনীয় ভাত-কাপড় এবং খাদ্যের চাহিদা অর্থাৎ মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারবে—তার প্রতিটি দিক ৩১ দফা কর্মসূচিতে বিএনপিসহ সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল একত্রিতভাবে জুলাইয়ে ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ এটি হচ্ছে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
ডা. জাহিদ বলেন, কিভাবে বাংলাদেশে আগামী সরকার অর্থাৎ সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সরকার পরিচালিত হবে। এই সরকারে মানুষ আস্থা রাখবে। সেই সরকারের দেশের সুশাসন নিশ্চিত হবে, আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং নিরপরাধ কোনো মানুষ সাজাপ্রাপ্ত হবে না, অপরাধীরা ছাড়া পাবে না। এই ধরনের একটি সামাজিক বন্দোবস্তের জন্যই আমরা লড়াই করছি।
তিনি বলেন, আমরা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ় করে রাজপথে থেকে এমন একটি ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলব যার মাধ্যমে কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিবাদ দূরে থাক, ফ্যাসিবাদের দোসররাও যাতে কোনো ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে সেখানে ঢোকার সুযোগ না পায়—সেই ঐক্যকে আমরা দৃঢ় করব। ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকেই আমরা সব ষড়যন্ত্র রুখে দেব।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জোটের মুখপাত্র বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, জোটের সমন্বয়ক বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল করিম, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি এম এ মান্নান ও প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব তমিজউদ্দিন টিটু।
ভোরের আকাশ/এসএইচ