শাপলা চত্বরের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি সারোয়ারের

বর্তমান সরকারের কাছে শাপলা চত্বরসহ গত ১৫ বছরের সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামটরে এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ৫ মে ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
তুষার বলেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যাকে অস্বীকার করে বাংলাদেশ কোনোদিন প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারবে না।
সভায় সারোয়ার তুষার বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের শুরু হয়েছিল পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে, যার ধারাবাহিকতায় শাপলা চত্বরে নৃশংস অভিযান চালানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এখন স্বীকার করছে যে সেই রাতে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে এই সত্যকে আড়াল করে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।
গণহত্যা বা জেনোসাইডের চেয়েও বড় অপরাধ হলো সেটি অস্বীকার করা—এমন মন্তব্য করে এনসিপি নেতা বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর অবমাননা বন্ধে তাদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম অবমাননাকে ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে রাষ্ট্রের উচিত ছিল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা, সেখানে বিগত সরকার নিজেই সরাসরি পক্ষ নিয়ে জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরপরাধ আলেম-ওলামা ও শিশুদের আর্তনাদ আজ শেখ হাসিনাকে চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলটির ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে সারোয়ার তুষার আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি কোনো প্রকার ধর্মবিদ্বেষী রাজনীতি বরদাস্ত করবে না। সংখ্যালঘুদের নিয়ে অপরাজনীতি বন্ধ করে সকল ধর্মের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
ভোরের আকাশ/আ.র