শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির ত্যাগীরাই উপেক্ষিত

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে বিএনপি নতুন সরকার গঠন করলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পায়নি বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতারা। ত্যাগ, নির্যাতন ও দীর্ঘ সংগঠনিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সিনিয়রা স্থান না পাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে-এমনটাই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বিশিষ্টজনদের মতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে ত্যাগ, নির্যাতন ও দীর্ঘ সংগঠনিক অভিজ্ঞতার যে ক’জন নেতার নাম বারবার উচ্চারিত হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, সেলিমা রহমান, নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুন নবী সোহেল এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রত্যেকের ত্যাগ ও ভূমিকা বিএনপির ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা হলে তা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্যও অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি। ২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে দলীয় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পুলিশের হামলার শিকার হন। তবুও ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় একাধিকবার কারাবরণ, মামলা, হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও কর্মসূচি পালনকালে তিনি পুলিশি লাঠিচার্জের মুখে পড়েন। সত্তরোর্ধ্ব এই নেতাকে রাজপথে ফেলে প্রহারের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দলীয় কর্মীদের দাবি, এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি শুধু ব্যক্তিগতভাবে নন, বরং দলের সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতীক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিত। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ থাকাকালে সংসদ ভবন এলাকায় এক আন্দোলন কর্মসূচিতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও আলোচিত হয়। তবে সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় তারও স্থান হয়নি।

২০১১ সালের ৬ ও ৭ জুলাই বিএনপির হরতাল আহবান করে। প্রথম হরতাল চলাকালে মানিক সংসদ ভবনের সম্মুখভাগে বিরোধীদলের চিফ হুইপ ফারুকসহ দলীয় সংসদ সদস্যরা মিছিল করেন। এ সময় পুলিশ মিছিল করতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে কথাকাটির এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ এবং সহকারী কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর আক্রমণ চালায়। পুলিশ কর্মকর্তারা ঐ সংসদসদস্যকে মারধর শুরু করে এবং বুটপরা পা দিয়ে লাথি মারে। তারা লাঠি ও রাইফেলের বাঁট দিয়ে পেটাতে শুরু করলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন ও প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। এ ঘটনায় ওইদিন মামলা করতে গেলে থানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলা খারিজ করে দেয়। অন্যদিকে, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুকসহ ১১ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। এছাড়া, সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ এনে জয়নুল আবদিন ফারুককে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২৫৪টি মামলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। নয়াপল্টনে এক কর্মসূচি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা দেখা গেছে। আওয়ামী সরকারের রোশানলে পড়ে কারাবরণ করতে হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীকেও।  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুও নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের দুঃসময়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। মন্ত্রিসভায় তার অনুপস্থিতিতে তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা প্রকাশ পায়।

গোলাম সরোয়ার সরকার নামের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুদু ভাইকে আর কত বঞ্চিত করা হবে-রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে, অথচ মন্ত্রিসভায় তার স্থান হয়নি। দলের ত্যাগী ও বার বার কারাবরণ করতে হয়েছে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে। তিনিও মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। আওয়ামী শাসনকালে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তির কবলে পড়তে হয়েছে এই নেতাকে।  মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হাবিব উন নবী খান সোহেলের। বিগত ১৫ বছর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে তাকে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৬১৮টি মামলা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অনুসারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ৬১৮টি মামলার আসামি হয়েও প্রিয় নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেল ভাইয়ের নাম মন্ত্রিসভায় নেই। তিনি এটিকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশিষ্টজনরা বলছে, দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তা তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে-এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির সামনে চ্যালেঞ্জ হলো অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

বিএনপি

শেয়ার করুন: