ডা. শফিকুর রহমান
বহু সরকার গেল-এলো, কিন্তু কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে বহু সরকার এসেছে ও গেছে, কিন্তু কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের ভাগ্যের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না। আমরা ক্ষমতায় গেলে আবরার ফাহাদ ও হাদি মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করবো। দেশের গরিব মানুষ অন্যায় করলে যেমন বিচার হবে, তেমনি রাষ্ট্রপতি অন্যায় করলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
যুব সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেব। কোনো কার্ড দিয়ে তাদের অসম্মান করতে চাই না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে যুবকদের আত্মমর্যাদাশীল করে গড়ে তুলবো।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দল, গোষ্ঠী বা পরিবারের বিজয় চায় না; বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। “আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। সংসদে যেতে পারলে বাংলাদেশ হবে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র,”—বলেন তিনি।
আগামী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, “আগামীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্ধারণ করবেন কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালা।”
অতীতের ভোটের সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের ভোট ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া হবে না। কোনো ভোটচোরকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইনসাফ কায়েম হলে বাংলাদেশ হবে একটি গতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। “আমরা ইনসাফের রাজনীতি করছি। বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না,”—যোগ করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে তিনি পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২ ও বরগুনা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। এছাড়া পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটভুক্ত এনসিপির প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রদান করেন।
উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২ ও পিরোজপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিতে পৃথক সমাবেশে অংশ নেন। পিরোজপুরের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে তার দক্ষিণাঞ্চল সফর শেষ হয়।
ভোরের আকাশ/ র.ই