শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভোটের প্রতীকই ফ্যাক্টর

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেওয়া হবে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো পুরোপুরি এখন নির্বাচনমুখী রয়েছেন। কাজেই ভোটের মাঠে জয়ের লক্ষ্যে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বামদলগুলো পৃথক পৃথক জোট গঠন করেছে বলেও দলগুলোর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া ছোট ছোট দলগুলোর।

বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে জোটে অংশ নিয়ে বড় দলের প্রতীকে ভোট করতে পারতেন ছোট দলের নেতারা। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে, এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। এতে বিপাকে পড়েছেন ছোট দলগুলোর বড় নেতারা।

দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, হুট করে এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দলগুলোকে সময় দিতে হবে। নিবন্ধিত নতুন দলগুলোর প্রতীক এখনো জনসাধারণের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তারা জোটপ্রধানের প্রতীকেই আগামীতে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। আর এ সমস্যার সমাধান নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও স্ব স্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকে, এমন বিধান যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাতিল চাওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার এ রিট দায়ের করেন। এমন পরিস্থিতিতে ছোট দলগুলোর সবার দৃষ্টি এখন সরকার ও ইসির দিকে।

এ প্রসঙ্গে এনডিএমের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম বলেন, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম রিটের পক্ষে শুনানি করবেন। আগে কোনো দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তারা জোটের শরিক যেকোনো দলের প্রতীক নেওয়ার সুযোগ পেত। তবে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। জোট করলেও দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করার বিধান নিয়ে তখন আপত্তি জানিয়েছিল দেশের অনত্যম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটি নির্বাচন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে তাদের আপত্তির কথা জানায়। জোটভুক্ত হতে আগ্রহী কিছু ছোট দলের মধ্যেও সরকারের এই সিদ্ধান্তে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।

বিএনপির সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে জোট করলেও ভোটে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এতে জোটবদ্ধ দলগুলোর ক্ষেত্রে নিজেদের ইচ্ছামতো জোটের প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ চেয়েছে দলটি। পক্ষান্তরে জোট হলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন চায় জামায়াত ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামীর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী জোট করলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নিতে হবেÑ এমন বিধানের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কে সমর্থন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আরপিও সংশোধনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জোট হলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিষয়ে একমত দলটি।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আরপিও সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে যেটা সংশোধন হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটা বিধান হচ্ছে ইলেক্টোরাল প্রসেস। তারাও সুপারিশ করেছিল যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তার জন্য নির্ধারিত প্রতীকেই সে দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন। আমরা এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছি। কিন্তু তারা (বিএনপি) এর বিরুদ্ধে ইসিতে প্রস্তাব দিয়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন বলেছে যে জোট হতে পারবে, কিন্তু প্রতীক হবে জোটবদ্ধ প্রত্যেক দলের। নির্ধারিত প্রতীকে তাদের ভোট করতে হবে। নিজ দলের প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য কোনো দলের প্রতীকে ভোট করা যাবে না। এটা আমরা মেনে নিয়েছি। উপদেষ্টা পরিষদে এই সংশোধনটা অনুমোদন হয়েছে। এটা হওয়ার পরও আমরা দেখলাম একটি দলের পক্ষ থেকে এসে এটাকে আবার সংশোধন করার জন্য বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এটার মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড লঙ্ঘন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বামদলগুলোর  দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর সারা দেশে নির্বাচনি হাওয়া বইছে। স্বৈরাচারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন ও রাজপথে লড়াই করা দলগুলোকে আসন ছাড় দিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিজ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্তে মিত্র দলগুলোর আসন চূড়ান্ত করতে পারছে না। নির্বাচনে জয়ের শতভাগ নিশ্চয়তা চান বিএনপির মিত্ররা। আসন ছাড় পাওয়ার পর প্রতীক হিসেবেও ধানের শীষে নিতে চায় বেশির ভাগ দলগুলো। তাদের ধারণা, এর ফলে ভোটের মাঠ ও জয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিমুক্ত থাকা যাবে। তবে আইনে বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে সরাসরি বিএনপির প্রার্থী হতেও আপত্তি নেই অনেকের। অন্যদিকে শরিকদের মধ্যে নিবন্ধন না থাকা দলগুলোর প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করবেন।

জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন বা এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ১২-দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরসহ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতন্ত্র মঞ্চও বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ভোটে অংশ নিতে চায়। বিএনপি যেসব আসন ফাঁকা রেখেছে তার বেশ কিছুতে মিত্রদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে কৌশল বা স্থানীয় কোন্দলের কারণে এখনো পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। পরে এসব আসনের প্রার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোতে অনেক পরিচিত মুখ রয়েছেন। জোটগতভাবে ভোট করবে কি না তা এখনো স্পষ্ট না করলেও নিজস্ব প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে জামায়াতসহ দলগুলো। ২০১৮ সালে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

পার্থ জানান, তিনি দলীয় প্রতীক গরুর গাড়ি নিয়ে নির্বাচন করবেন। তবে কমিশনের নিয়মে যদি সুযোগ থাকে তাহলে জোটের প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করবেন। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। ২০১৮ সালেও তিনি এ আসন থেকে ভোট করেন ধানের শীষ প্রতীকে। বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে এবারও ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ধানের শীষে নির্বাচন করবেন। সম্প্রতি নিবন্ধন পেয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। প্রতীক আম। নিজস্ব প্রতীক থাকা সত্ত্বেও ধানের শীষে নির্বাচন করতে চান দলের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি এলাকায় কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি ধানের শীষের বিকল্প নেই। ধানের শীষ হলে আমার কাজ করতে সুবিধা হবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মাঠে নামবেন। এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করে আসছি। ধানের শীষ নিয়ে ভোট করলে পাস করা সহজ হবে।

ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম। এ দলের প্রতীক সিংহ। ববি হাজ্জাজের জন্য ঢাকা-১৩ ও দলের মহাসচিব মোমিনুল আমিনের রাজবাড়ী-২ আসন ফাঁকা রেখেছে বিএনপি। 

মোমিনুল আমিন জানান, তারা জোটের প্রতীক ধানের শীষে নির্বাচন করতে চান।  তিনি বলেন, নতুন প্রতীক এখনো জনসাধারণের কাছে পরিচিতি পায়নি। বিএনপি আসন ছাড় দিলেও ধানের শীষ প্রতীক না থাকলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঠিকভাবে নির্বাচনি মাঠে পাওয়া যাবে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় দলগুলো নানা সময়ে ছোট ছোট দলকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করে। এরপর নির্বাচনের আগে নির্বাচনি জোট হয়। কিছু কিছু দল রয়েছে যাদের ঢাকাকেন্দ্রিক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি। এসব ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান মানুষের কাছে জনপ্রিয় হলেও নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে তার দলের প্রতীক খুব বেশি পরিচিত নয়। তাই জোট হলে ছোট দলগুলোর প্রার্থীরা বড় দলের প্রতীকে ভোটে লড়াই করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আবার অনেকে নিজ দলের প্রতীকেই ভোট করতে চান।

এক্ষেত্রে প্রার্থীর আসনকেন্দ্রিক জনপ্রিয়তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু এবারের সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, কোনো দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও ভোটের লড়াই করতে হবে নিজ দলীয় প্রতীকে। নতুন এ আদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোট গঠন ও ভোটের লড়াইয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ
 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোটের প্রতীক

শেয়ার করুন: