প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান আয়োজন ও শৃঙ্খলা বিষয়ে নির্দেশনা

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনাবলি প্রণয়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এসব নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এস. এম. নছরুল কদিরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা নির্দেশনাবলির কপি উপাচার্যের কাছে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী এবং সহকারী প্রক্টর অনুপ কুমার বিশ্বাস, তাসনিম উদ্দীন চৌধুরী, মোহাম্মদ রকিবুল হোছাইন, মোহাম্মদ হাসান ও রাহুল চৌধুরী।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্ধারিত কাগজপত্র যথাসময়ে জমা দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদিত কর্মসূচি ও নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও আয়োজকদের বিশেষভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে শালীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও বৈষম্যহীন পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে দায়িত্ব বণ্টন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নির্দেশনাবলিতে বহিরাগত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের অংশগ্রহণের বিষয়েও নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠান পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা প্রস্তুত রাখা, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পার্কিং ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সম্পদ ও অবকাঠামো যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়েও আয়োজকদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত কোনো অনুষ্ঠান স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনে অনুষ্ঠানের সময়সূচি বা স্থান পরিবর্তন কিংবা অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া নির্দেশনাবলি অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/আ.র