‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও নতুন কারিকুলাম করবে সরকার’

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত সংস্কার আনার পাশাপাশি নতুন কারিকুলাম দ্রুত প্রণয়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। রবিবার (১ মার্চ) তিনি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর–এর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, সহজতর এবং ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সৃজনশীল প্রস্তাবনা ও কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনও প্রচলিত প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মতো নয়, এটি একটি মৌলিক ও জাতি গঠনের মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে এবং নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলে। শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা রেড টেপ দূর করতে হবে।
কোর্স ও কারিকুলামকে আরও সহজ, সময়োপযোগী ও উৎপাদনশীল করতে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ কাজ পর্যালোচনা করে উন্নয়নমূলক প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এটি আপনার দেশ, আপনার সন্তান, আপনার ভবিষ্যৎ। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে, নতুন পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে আসতে হবে।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৭ সালের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য চলতি মাসের মধ্যেই নতুন কারিকুলাম কমিটি গঠন ও সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস প্রস্তুত করতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অন্যান্য দেশের উন্নত শিক্ষা মডেল, গবেষণা প্রবন্ধ এবং পিএইচডি গবেষকদের কাজ পর্যালোচনা করে কার্যকর ধারণা গ্রহণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান ধাপে ধাপে জাতীয় শিক্ষানীতিতে সংযুক্ত করা হবে।
সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জানান কথা ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিক্ষা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের দায়িত্ব, শিক্ষকসংক্রান্ত সমস্যা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিদ্যমান জটিলতা– এসব বিষয়ে একটি সুসংগঠিত সলিউশন লিস্ট প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। এতে করে কার্যকর আলোচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন– কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
ভোরের আকাশ/এনএস