জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ঢাবি-ফ্রান্সের যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সমাপ্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্ন্যান্স (ICOG), সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ ও ঢাকাস্থ ফ্রান্স দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশী ব-দ্বীপ অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য পানির স্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের কারিগরি সক্ষমতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এম এ লতিফ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ICOG-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন ফ্রান্সের লা রোশেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএনআরএস গবেষক ও প্রশিক্ষক ড. জো সি গ্রাল। সমাপনী বক্তব্য দেন ফ্রান্স থেকে আগত ICOG-এর ভিজিটিং সাইন্টিস্ট ড. টোনিয়া অ্যাস্ট্রিড ক্যাপুয়ানো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপীয় দেশ। উত্তাল সমুদ্র ও পরিবর্তনশীল জলবায়ুর মধ্যে বসবাসকারী এই দেশের উপকূলকে যত নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা যাবে, তত ভালোভাবে তা সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময় ও বৈজ্ঞানিক অবকাঠামোকে জাতীয় সক্ষমতায় রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সঠিকভাবে পরিমাপ, বোঝাপড়া ও প্রয়োগ ছাড়া কোনো ডেটাই কার্যকর হয় না।
উপাচার্য বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকূলকে হাতেকলমে বোঝার প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের ব্লু-ইকোনমি-সংক্রান্ত জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি এসব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি কেবল শুরু। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ে আরও সহযোগিতা বাড়বে।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়তে থাকায় পানির স্তর, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমি অবনমনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় নীতি প্রণয়ন ও কৌশলগত অভিযোজনের জন্য সঠিকভাবে পরিমাপ করা জরুরি।
তিনি বলেন, এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ, যা ফরাসি দূতাবাসের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭-২০ আগস্ট এবং ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর—দুই ধাপে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের ৬০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন অতিথিরা।
ভোরের আকাশ/জেআ