জাকসু নির্বাচনের ফল গণনায় ধীরগতি, প্রার্থীদের ক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ফলাফল ঘোষণা নিয়ে চলছে ধীরগতি। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাত ১০টায় গণনা শুরু হলেও শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্তও পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ হয়নি।
প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও কেবল ২১টি হল সংসদের ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে। এর পর শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা। ফলে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংসদের ব্যালট পেপার তিন পৃষ্ঠার হওয়ায় গণনায় এত সময় লাগছে। প্রায় আট হাজার ভোট পড়ায় শুধু কেন্দ্রীয় অংশেই করতে হচ্ছে প্রায় ২৪ হাজার গণনা। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সুলতানা আক্তার বলেন, “এই পদ্ধতিতে তিন দিনেও গণনা শেষ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এর পরিবর্তন দরকার।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান জানান, গণনা কার্যক্রমে জনবল সীমিত। সংখ্যাটা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কখন ফল ঘোষণা করা যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একপর্যায়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, “ভোট গণনা শেষ হতে আরও ৯২ ঘণ্টা লাগতে পারে।”
অন্যদিকে প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। ছাত্রশিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, বিএনপিপন্থি কয়েকজন শিক্ষক নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে ছাত্রদলসহ পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে প্রায় সাত হাজার ৯৪৭ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটের ৬৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী।
ভোট গণনার দীর্ঘ চাপে প্রাণ হারিয়েছেন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস (৩১)। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর শুক্রবার সকালে সিনেট ভবনের সামনে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার দাফন সম্পন্ন হয় নিজ গ্রামের বাড়ি পাবনায়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ফল গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বজায় থাকবে।
ভোরের আকাশ//হ.র