শিক্ষার্থীরা অনড়, দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে তার কার্যালয়ে ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য ছাত্রদলের নেতা-কর্মী ও বহিরাগতদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাব উদ্দিন উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জানান, উপাচার্য শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং তার রক্তচাপও স্বাভাবিক। অবরুদ্ধ থাকার কারণে কেবল কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন বলে ডা. সাহাব উদ্দিন উল্লেখ করেন। বুকে ব্যথার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপাচার্য তাকে এমন কোনো কষ্টের কথা জানাননি।
তবে এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. টিপলু কান্তি দে এসে উপাচার্যের শারীরিক পরীক্ষা করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্য বুকে ব্যথা অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন এবং তার রক্তচাপও বেশি পাওয়া গেছে। উপাচার্যকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন বলে তিনি মতামত দেন। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট মন্তব্যের ওপরই ভরসা রাখছেন।
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হচ্ছে না। সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর পর মাথা ও বুকে ব্যথা বেড়েছে। এখন কারও সাথে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই।’
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টায়, যখন উপাচার্য পদে যোগদানের ১৮ দিন পর তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন ড. শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন।
নির্দিষ্ট সময়ে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টায় ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন তারা। রাতে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা এসে সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য—উপচার্য নিজ হাতে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
ভোরের আকাশ/আ.র