আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস আজ

বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) পালিত হতে যাচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং নিরক্ষরতা দূর করতে জনসচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
স্বাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়তে, লিখতে ও প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে পারার সক্ষমতা একজন মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলে।
দৈনন্দিন জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া, নিজের অধিকার সম্পর্কে জানা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রেও স্বাক্ষরতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে স্বাক্ষরতাকে বিবেচনা করা হয়।
১৯৬৬ সালে ইউনেসকো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরের বছর থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর দিবসটি উপলক্ষে একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়।
বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে শিক্ষার প্রসার ও স্বাক্ষরতার হার বাড়লেও এখনও সবার জন্য মানসম্মত ও কার্যকর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে স্বাক্ষরতার ধারণাও বদলে যাচ্ছে। এখন শুধু পড়তে ও লিখতে জানাই যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কেও মানুষের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা দরকার। ফলে আধুনিক স্বাক্ষরতা মানুষের জীবন ও কর্মদক্ষতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামোগত অগ্রগতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শিক্ষিত, দক্ষ ও সচেতন জনগোষ্ঠী। স্বাক্ষরতার মাধ্যমে মানুষ নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসে তাই প্রত্যাশা—দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হবে। ঝরে পড়া রোধ, বয়স্ক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে উঠবে। স্বাক্ষরতার আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি মানুষ, এগিয়ে যাবে দেশ।
ভোরের আকাশ/ইউএম