ডাকসু নির্বাচন: বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় সরকার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা নিরসনে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দুই দলের দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী টেলিফোনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরকার উভয় দলকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বহিরাগতরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আইন উপদেষ্টা এবং আরও কয়েকজন ফোন করেছিলেন। তারা উত্তেজনা এড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরাও আশ্বস্ত করেছি, সংঘাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা আমাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। আমরা জানিয়েছি, সংঘর্ষে জড়াব না এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রবেশ করব না। তবে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা সজাগ থাকব।”
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটের দিন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাগছাস-সমর্থিত প্রার্থীরা কারচুপি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথসহ শাহবাগ, নিউমার্কেট ও প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন।
সন্ধ্যার পর ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান ও মিছিলের কারণে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সরকার পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
ভোরের আকাশ//হ.র