নারায়ণগঞ্জ
র্যাব-১১ ও ভোক্তা অধিকারের অভিযানে শিশুখাদ্য জব্দ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ভেজাল জুস ও শিশুখাদ্য তৈরির অভিযোগে একটি কারখানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে র্যাব-১১ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল ও মানহীন খাদ্যপণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় অবস্থিত লাবনী ফুড কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। র্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
র্যাব-১১-এর অপারেশনস অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ও ক্ষতিকর রং ব্যবহার করে জুস ও শিশুখাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। কারখানার ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত ভেজাল জুস, শিশুখাদ্য এবং এসব পণ্য তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য বাজারজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। অভিযানের সময় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের একাধিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনস্বার্থমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের জুস, লিচু ফ্লেভার পানীয় ও শিশুখাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পণ্যের মান নিম্নমানের এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, শিশুদের জন্য প্রস্তুত খাদ্যে ভেজাল মেশানো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ ও অননুমোদিত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত ভেজাল ও নকল পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহলের দাবি, বাজারে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্যপণ্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।
ভোরের আকাশ/ র.ই