সোনারগাঁওয়ে মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী বাবুল ভূইয়া

আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি ও বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় লক্ষে নিজের যোগ্যতায় মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বাবুল ভূইয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তি। মুরগি পালনে সঠিক পরিচর্চা ও নিজ শ্রমে স্বাবলম্বী হওয়া যায় এরকম একটি উদাহণ সৃষ্টি করেছেন সোনারগাঁ উপজেলার দুধঘাটা এলাকার মৃত আব্দুল খালেক ভূইয়ার ছেলে বাবুল ভূইয়া।
নিজ বাড়ীর ছাদে মুরগি পালন করে সংসার জীবনে ব্যাপক সফলতা এনেছেন। বাবুল ভূইয়া দীর্ঘদিন মালয়শিয়া ও সৌদিআরব প্রবাসী ছিলেন। প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষে ২০১৫ সালে নিজ বাড়ীর ছাদে প্রথমে অল্প পরিসরে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন প্রকারের মুরগি লালন পালন শুরু করেন। সেই থেকে পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। এরপর ২০১৬ সালে বৃহৎ পরিসরে অগ্রযাত্রা শুরু তার। বিগত দশ বছর ধরে তিনি মুরগি পালন করে লাখ লাখ টাকা আয় করে এখন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী একজন সফল খামারি।
বর্তমানে তার বাড়ীর ছাদ খামারে প্রায় এক হাজার মুরগি রয়েছে। নিজ শ্রমের পাশাপাশি প্রতি পিস মুরগির উৎপাদন ব্যয় পড়বে প্রায় ২১০ টাকা থেকে ২২০ টাকা। দু'চার দিনের মধ্যেই তিনি মুরগি
বিক্রি শুরু করবেন। বাজারদর ভাল হলে মুরগি বিক্রিতে তার কমপক্ষে ৭০/৮০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশাবাদী তিনি।
তবে খামারি বাবুল ভূইয়া অভিযোগের সূরে বলেন, বর্তমানে অনেক পোল্ট্রি শিল্পের খামারিরা লোকসানে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পোল্ট্রি ফার্মে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় খাবারের দাম বাবৎ। একটি খামার পরিচালনায় যেই পরিমাণ ব্যয় হয় তার শতকরা ৭০ ভাগ ব্যয় হয় খাবারের পেছনে। এই অবস্থায় খাবারের দাম বেড়ে গেলে একই হারে মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। একই হারে মুরগির দাম না বাড়লে লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয় খামারীদের।
এশিল্পে উৎপাদিত খাদ্যে ব্যবহৃত ভূট্টার দাম বিগত বছরগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বেড়ে যাওয়ায় খাবারসহ অন্যান্য জরুরি ওষুধসহ বেড়ে গেছে সংশ্লিষ্ট সব কিছুর দাম। খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার তুলনায় বাড়েনি মুরগি দাম। বর্তমান সময়ে উৎপাদন খরচ হিসেবে মুরগির বাজারদরের ভারসাম্য নেই।
তিনি আরো বলেন, কোন এনজিও সংস্থা ও সরকারিভাবে ঋণ সহায়তা পেলে আরো ব্যাপক আকারে খামার গড়ে তুলতে পারব। সফল খামারি বাবুল ভূইয়াকে দেখে এখন উৎসাহিত হয়ে নিজ এলাকার পাশাপাশি মঙ্গলেরগাঁও, দূর্গাপ্রসাদ, কাজিরগাঁও, কোরবানপুর, নয়াগাঁও, পাঁচানীসহ আশপাশের এলাকায় এখন মুরগি পালনে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক।
সোনারগাঁ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোছাম্মদ নইফা বেগম জানান, বাবুল ভূইয়া প্রমাণ করেছেন মুরগি পালন করে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী হওয়া যায়। অনেক
বেকার যুবক চাকুরীর পেছনে না ঘুরে সঠিক ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুরগি পালন করে সফল উদ্যোগক্তা হতে পারেন।
ভোরের আকাশ/ইউএম